বিজ্ঞাপন

পশুখাদ্য সরবরাহে সিন্ডিকেট, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন ভুক্তভোগীরা

পশুখাদ্য সরবরাহে সিন্ডিকেট, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন ভুক্তভোগীরা

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন খামার এবং প্রকল্পে পশুখাদ্য সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট প্রভাব বিস্তার করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের একাংশ। তাদের দাবি, দরপত্রে অযৌক্তিক শর্ত আরোপের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা সীমিত করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর কাজ পেয়ে আসছে, ফলে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ ঠিকাদাররা ব্যবসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের পক্ষে মেসার্স আকাশ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হাসানুজ্জামান।

তিনি বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই), সাভারে পশুখাদ্য সরবরাহের কাজে গত ১৮ বছর ধরে হাফিজুর রহমান নামের এক ঠিকাদার প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তিনি মেসার্স তুষার এন্টারপ্রাইজ, এনআর সিস্টেম, রোহান ইন্টারন্যাশনাল ও মেসার্স শিখা এন্টারপ্রাইজ নামের চারটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দরপত্রে অংশ নেন। দরপত্রে এমন কিছু কারিগরি শর্ত ও স্পেসিফিকেশন যুক্ত করা হয়, যা কার্যত একটি নির্দিষ্ট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে হাফিজুর রহমানের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো ঠিকাদার অংশগ্রহণ করতে পারেন না। এতে সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু বিএলআরআই নয়, কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার, ছাগল উন্নয়ন খামার, মুরগি প্রজনন খামারসহ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পেও একই ধরনের প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।

এই ঠিকাদার বলেন, আরেক ব্যক্তি হিল্টন কুমার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের খামার ও প্রকল্পে পশুখাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি এইচএন এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স অঙ্কিতা এন্টারপ্রাইজ, এফএম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং মেসার্স লুৎফা এন্টারপ্রাইজ নামের চারটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দরপত্রে অংশ নেন। জয়পুরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, বরিশাল, ফরিদপুর, রাজশাহী, ঝালকাঠি, কুড়িগ্রাম, নওগাঁ, সুনামগঞ্জ, বাগেরহাট ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার সরকারি খামার ও প্রকল্পে একই ধরনের পদ্ধতিতে কাজ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

হাসানুজ্জামান বলেন, এসব বিষয়ে ২০২৫ সালের ৯ জুলাই তৎকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিলও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকারের সময়েও কীভাবে এই সিন্ডিকেট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে এদের পেছনে কারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানাচ্ছেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রত্যাশা জানিয়ে বলেন, পশুখাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় আওয়ামী সিন্ডিকেট ভেঙে সাধারণ ঠিকাদারদের ব্যবসা করার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্দেশ দিবেন। যেখানে সরকারের ক্রয় আইন পিপিআর ২০০৮ ও ২০২৫ বলবৎ থাকবে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের পর দেশে বৈষম্যহীন পরিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে এবং বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে কিছু খাতে এখনো অনিয়ম ও দুর্নীতি অব্যাহত রয়েছে।

এমএইচএন/জেডএস

বিজ্ঞাপন