রাজধানীতে আবাসিক গ্যাস গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক বিল আদায় এবং প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের দাবি জানিয়ে গ্রাহকরা বলছেন, বর্তমান ব্যবস্থায় গ্যাস সরবরাহ না পেলেও গ্রাহকদের প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার ৮০ টাকা বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, এটা আমরা কেন দেব? এটা এক ধরনের অন্যায় চাপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গ্রাহকদের সমন্বয়ে ‘সচেতন জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, আমরা গ্যাসের মিটার চাই, ন্যায্য বিল চাই, হয়রানিমুক্ত গ্যাস চাই। বর্তমান ব্যবস্থায় গ্যাস সরবরাহ না পেলেও গ্রাহকদের প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার ৮০ টাকা বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা এক ধরনের অন্যায় চাপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এছাড়া মিটারবিহীন ব্যবস্থার কারণে প্রকৃত ব্যবহার অনুযায়ী বিল নির্ধারণ না হওয়ায় গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
এসময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- আবাসিক খাতে দ্রুত প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপন, ব্যবহারভিত্তিক ন্যায্য বিল নিশ্চিত করা, গ্যাস না থাকলে বিল না নেওয়া, অবৈধ লাইন ও অপচয় বন্ধের মাধ্যমে জাতীয় সম্পদের সুরক্ষা এবং হয়রানিমুক্ত ও স্বচ্ছ গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রি-পেইড মিটার চালু হলে, গ্রাহক যেমন সঠিক বিল পরিশোধের সুযোগ পাবেন, তেমনি সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে এবং গ্যাস অপচয় কমবে। আমাদের দাবি খুব ছোট, গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার। মিটার থাকলে আমাদের আটটি লাভ। যার মধ্যে রয়েছে- ন্যায্য বিল যতটুকু জ্বালাবো ততটুকু বিল, এক হাজার ৮০ টাকার ভূতুড়ে বিল নাই। স্বচ্ছ হিসাব মিটারে দেখবো কত টাকা আছে বিল নিয়ে টেনশন শেষ। বকেয়া, জরিমানা নাই টাকা আগে, গ্যাস পরে বিল বাকি রাখার সুযোগ নাই। দেশের সম্পদ বাঁচবে, গ্যাস চুরি বন্ধ, অপচয় কমবে জাতীয় সম্পদের সাশ্রয় হবে। রিচার্জ সহজ বিকাশ, নগদ, রকেটে ঘরে বসে লাইনে দাঁড়ানো লাগবে না। জরুরি ব্যালেন্স টাকা শেষ হলেও গ্যাস পাবো রান্না মাঝপথে বন্ধ হবে না। অবৈধ লাইনের হয়রানি নাই, মিটার সরকারি বৈধ সংযোগ হঠাৎ এসে লাইন কাটবে না এবং আমরা সারা বাংলাদেশে দ্রুত গ্যাস মিটার চাই, সরকারের বিপক্ষে না। ভয় নাই বকেয়া নাই, তাই লাইনও কাটবে না রাত আর দিন নাই নিশ্চিন্তে রান্না করা যাবে। তাই আমাদের একটাই দাবি সরকারি উদ্যোগে আমরা চাই, জনগণের উন্নয়ন দ্রুত হোক। গ্যাস মিটার দিলে গ্রাহক বাঁচবে, দেশের রাজস্ব বাড়বে।
মানববন্ধনে গ্রাহকদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সজল আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, হৃদয় আহমেদ, মনির হোসেন প্রমুখ।
এএসএস/জেআই/জেডএস
