রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় ‘ডট ইন্টারনেট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটেছে। ‘বাপে ফোন দেয়, ধরস না কেন? বাপের সঙ্গে কথা না বলে কীভাবে ব্যবসা করিস সেটা দেখবো’—এরকম কথা বলতে বলতে ওই প্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে অভিযোগ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট কো-অর্ডিনেটর অফিসার সগীর হোসেন আসিফ বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানা একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ইন্টারনেট অফিসে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি বলেন, ডট ইন্টারনেট অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় আমরা মামলা নিয়েছি। জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। খুব দ্রুতই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদপুর থানার লালমাটিয়া ই-ব্লকের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির অফিসে ২০-২৫ জনের একটি দল মাস্ক পরা অবস্থায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে। পরে কর্মীদের মারধর করে প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রদীপ ঢালী এবং সিটিও মো. মিঠু হাওলাদারকে খুঁজতে থাকে।
সে সময় অফিসে উপস্থিত অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার মো. ইব্রাহিম হাওলাদার এবং ইলেকট্রিশিয়ান মো. জালাল তাদের আসার কারণ জানতে চাইলে দুর্বৃত্তরা উত্তেজিত হয়ে তাদের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এতে তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান এবং পরবর্তী সময়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
হামলাকারীরা অফিস থেকে একটি সিপিইউ, একটি ওয়াইফাই রাউটার এবং একটি আইফোন মোবাইল চুরি করে, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা। যাওয়ার সময় তারা স্টাফদের বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়।

হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মাস্ক পরিহিত অবস্থায় ৭ জন অফিসে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা অ্যাকাউন্ট শাখায় যায়। সেখানে গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলা অবস্থায় অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার ইব্রাহিম হাওলাদারকে মারধর করা হয়। এ সময় হামলাকারীরা বলে, ‘মিঠু (মিঠু হাওলাদার) ও প্রদীপ (প্রদীপ ঢালী) কই? বাপে ফোন দেয়, ধরস না কেন? বাপের সঙ্গে কথা না বলে কীভাবে ব্যবসা করিস সেটা দেখবো।’ পুরো ঘটনা আবার পাশের একজন ভিডিও কলে বাইরের কাউকে দেখাতে দেখা যাচ্ছিল।
একই সময়ে অফিসে আসার কারণ জানতে চাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ইলেকট্রিশিয়ান জালালকেও মারধর করা হয়। পরে সবাইকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়।
দুর্বৃত্তরা যে মিঠুকে খুঁজতে এসেছিল তিনি প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার। ফোন আসার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাকে কেউ কখনো ফোন করেনি। কারা কী কারণে আমার অফিসে হামলা করেছে, কিছুই বলতে পারবো না। অজ্ঞাত মাস্কধারী দুর্বৃত্তরা আমার অফিসে এসে আমার অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার ও ইলেকট্রিশিয়ানকে মারপিট করে। মাস্ক পরে থাকায় তাদের কাউকে চেনা যায়নি। তাদের এই অফিসে আসার উদ্দেশ্য কী? কেন তারা এসেছে? সে বিষয়টি আমার কাছে এখনো স্পষ্ট নয়। তারা এমন একটি সময় এসেছিল, যখন অফিসে তেমন কোনো লোক ছিল না। থানায় আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, বাকি ব্যবস্থা পুলিশ নেবে।
এসএএ/এসএএস/এসএম
