সবার জন্য সুন্দরভাবে ব্যবসা করার সুবিধা তৈরি করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রত্যেকের জন্য এমন সুবিধা তৈরি করা হবে, যেখানে তারা সুন্দরভাবে ব্যবসা করতে পারেন। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন। সেইভাবেই আমরা চেষ্টা করছি এবারকার বাজেটটি তৈরি করতে। তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে সহজকরণ করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ (বুধবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ মো. মোবাশ্বের আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশকে গড়ে তুলতে হলে অর্থনৈতিক সুশৃঙ্খলা বা ডিসিপ্লিন ফিরিয়ে আনতে হবে এবং একই সাথে দেশে ব্যবসাবান্ধব একটি পরিস্থিতি বা পরিবেশও গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর হতে আমদানি ও রফতানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুততর সময়ের মধ্যে প্রদান করা হচ্ছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য রফতানি নীতি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ হালনাগাদকরণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজে বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। রফতানির উদ্দেশ্যে আমদানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দূর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বন্ডেড এবং নন-বন্ডেড সকল প্রতিষ্ঠানকে এফওসি ভিত্তিতে আমদানির সুযোগের আওতা আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। আমদানি সহজীকরণের লক্ষ্যে মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করা হচ্ছে এবং সকল আমদানিকারকের জন্য মূল্যসীমা নির্বিশেষে এলসি ব্যতিত চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার চুক্তি বাস্তবায়ন ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের মাধ্যমে বাণিজ্য প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাণিজ্য সহজীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হলো-
বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা হ্রাস ও সেবার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ একীভূতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে সরকার মূলধন ও বিনিয়োগ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সহজীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে শেয়ার বিক্রয়, ব্যবসা হস্তান্তর বা ব্যবসা বন্ধ করার পর বিনিয়োগকৃত মূলধন ও অর্জিত অর্থ বিদেশে প্রেরণের ক্ষেত্রে অনেক বিনিয়োগকারী মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা এবং অতিরিক্ত দলিলপত্রের প্রয়োজনীয়তার কারণে বিলম্ব ও অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হন। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত মূলধন প্রত্যাবর্তন-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি বিদ্যমান প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন করেছে, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বিনিয়োগ কার্যক্রমের সূচনা আরও দ্রুত, সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য করতে সরকার লাইসেন্সিং ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
এমএসআই/এনএফ
