বিজ্ঞাপন

আশকোনায় হাজি ক্যাম্পে লাউঞ্জ নির্মাণে ভূমি সংকট

আশকোনায় হাজি ক্যাম্পে লাউঞ্জ নির্মাণে ভূমি সংকট

ঢাকার আশকোনা হাজি ক্যাম্প সংলগ্ন নির্ধারিত স্থানে হজযাত্রীদের সাথে আসা সফরসঙ্গী ও দর্শনার্থীদের জন্য নতুন লাউঞ্জ ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত স্থানটিতে প্রয়োজনীয় ‘গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স’ না থাকায় সেখানে স্থায়ীভাবে কোনো লাউঞ্জ ভবন নির্মাণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ (বুধবার) জাতীয় সংসদে গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারের করা লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আশকোনা হাজী ক্যাম্প সংলগ্ন স্থানে আগত দর্শনার্থীদের বসার জন্য একটি নতুন লাউঞ্জ ভবন নির্মাণের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় ছিল। এই লক্ষ্যে গত ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর স্থাপত্য অধিদপ্তর কর্তৃক উক্ত স্থানটি সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। তবে পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয় যে, ওই স্থানে প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স না থাকায় সেখানে স্থায়ীভাবে দর্শনার্থীদের জন্য লাউঞ্জ ভবন নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তবে সরকার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। হাজী ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী কোনো উপযুক্ত খালি জায়গা পাওয়া সাপেক্ষে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পাদনপূর্বক সেখানে হজযাত্রীদের সঙ্গে আসা সফরসঙ্গী ও দর্শনার্থীদের জন্য ভবিষ্যতে একটি আধুনিক লাউঞ্জ ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে।

এদিকে, চট্টগ্রামকে দেশের প্রকৃত বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার আইনি ও প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা নিয়ে সংসদে আরেকটি প্রশ্নের অবতারণা করেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দীন আহমেদ। তিনি তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিলেও আজ পর্যন্ত তা সত্যিকার অর্থে কার্যকর হয়নি। বর্তমান সরকারও তাদের নির্বাচনী জনসভায় এবং ইশতেহারে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই ঘোষণা কবে নাগাদ আইনগতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা জানতে চান তিনি।

এই প্রশ্নের জবাবে সরকার প্রধান জানান, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর, আমদানি-রপ্তানির কেন্দ্রবিন্দু এবং শিল্প ও বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নগরী। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই শহরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০০৩ সালে চট্টগ্রামকে ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও এর বিপরীতে তখন কোনো প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হয়নি। তবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে। সরকার চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্যিক রাজধানী এবং কর্মসংস্থানের হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শুধুমাত্র বন্দরের উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, বরং অর্থনীতি, অবকাঠামো, নগর ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরসহ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আইনগত, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত বিষয়সমূহ পর্যালোচনা সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন আধুনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও কাস্টমস সেবাকে গতিশীল করা, ডিজিটাল সেবা দ্রুততর করা, গভীর সমুদ্র বন্দর ও মাল্টিমোডাল পরিবহন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি এবং পণ্য খালাস কার্যক্রম দ্রুততর করা। একই সঙ্গে বন্দর থেকে শিল্পাঞ্চল ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে দ্রুত পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ‘সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কাজগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা গেলে চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশের একটি পূর্ণাঙ্গ ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

এসআর/এনএফ