চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ বিদ্যুৎ ভবনে সিবিএ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা এবং তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১টা ৪০ মিনিট থেকে আড়াইটার দিকে আগ্রাবাদ বিদ্যুৎ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফা ইয়াসমিনের কক্ষের সামনে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সিবিএর বর্তমান ও সাবেক নেতাসহ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল ওই সময় কার্যালয়ে প্রবেশ করে হট্টগোল, বাকবিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনা ঘটায়। পুরো ঘটনায় নেতৃত্ব দেন সম্প্রতি অবসরে যাওয়া সিবিএ নেতা গাজী মো. আইয়ুব।
প্রকাশিত ভিডিওতে গাজী মো. আইয়ুবকে সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানকে থাপ্পড় মারতে দেখা যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ সময় সেখানে উপস্থিত নারী কর্মকর্তাদের সঙ্গেও অসদাচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যুৎ ভবন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফা ইয়াসমিন তার দপ্তরে দৈনিক মজুরিভিত্তিক একজন কর্মী নিয়োগ দেন। এতে আপত্তি জানিয়ে সিবিএ নেতারা কার্যালয়ে গিয়ে কেন তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এ ঘটনায় প্রকৌশলী মেহেদী হাসান, নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফা ইয়াসমিন, কর্মকর্তা মো. পারভেজ ও নাসরিন আক্তারসহ কয়েকজন হেনস্তা ও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চার কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে অন্যত্র বদলি করেছে কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন— মো. হাফেজ, নুর নবী, শফিকুল ইসলাম ও মো. আইয়ুব।
নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, দৈনিক মজুরিভিত্তিক একজন কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল আমার কক্ষে প্রবেশ করে। তারা তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়ায় এবং একপর্যায়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার পর চারজনকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিবিএর সাবেক নেতা গাজী মো. আইয়ুবকে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি এখনও তার নজরে আসেনি। তবে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরএমএন/এমএসএ
