বিজ্ঞাপন

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

‘স্বৈরাচার অর্থনীতি ধ্বংস করেছে, আমরা গড়ব সম-উন্নয়নের বাংলাদেশ’

‘স্বৈরাচার অর্থনীতি ধ্বংস করেছে, আমরা গড়ব সম-উন্নয়নের বাংলাদেশ’

বিগত স্বৈরাচারী সরকার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তবে সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করে একটি বৈষম্যহীন ও সম-উন্নয়নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই প্রত্যয় ঘোষণা করেন। 

এই অধিবেশনে সরকারি দলের মতো বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন কাজ করার ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি জনস্বার্থে ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য দিয়ে তৈরি পোলট্রি ও ফিশ ফিডের ক্যানসার ঝুঁকি, চট্টগ্রাম বন্দরকে সিঙ্গাপুরের দক্ষতায় রূপান্তর এবং প্রবাসীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। 

বিরোধী দলের প্রতি সহযোগিতার হাত

অধিবেশনে সংসদ সদস্য আনিছুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের সুষম উন্নয়ন এবং বিরোধী দলের প্রতি সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। স্পিকারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঈদের আগে সরকারের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু সহযোগিতা হয়তো বিরোধীদলীয় অনেক সংসদ সদস্য পাননি বলে বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করেছিলেন। আমি ওই বৈঠক থেকে বেরিয়েই এলজিইডি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয়কেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি।

তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে বিরোধীদলের সদস্যদের এলাকাতেও সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক। কাজেই গঠনমূলক কোনো সমালোচনা থাকলে অবশ্যই আমরা তা গ্রহণ করব এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বাণিজ্য-বান্ধব বাজেট

সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারের পতনের পর দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কীভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, তা এখন আরও পরিষ্কার। দেশের অর্থনৈতিক সুশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি জানান, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এবং বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর হতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখন অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া রপ্তানি নীতি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’ হালনাগাদ করার কাজ চলমান রয়েছে।

মেগা কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন

সংসদ সদস্য আবুল কালাম ও শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের পৃথক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১৮০ দিন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর এবং আগামী ৫ বছরের জন্য মেগা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। ইতোমধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেশ কিছু কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমগুলো হচ্ছে- পাইলটিং পর্যায়ে ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং ২০ হাজার ৭৪৮ জনকে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে। শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্যখাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে লভ্যাংশ নেওয়ার আইনি জটিলতা সমাধান করা হয়েছে। বিদেশ থেকে কোনো বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক বিনিয়োগ নিয়ে এলে বিনিয়োগের ১.৫ শতাংশ পরামর্শক ফি বা কমিশন দেওয়া হবে। ১৮০ দিনের মধ্যে ৫টি জেলায় (খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী) ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা শুরু হবে। আগামী অর্থবছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ এবং পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হচ্ছে। সরকার ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ২ হাজার ৮৭৯ জনের নিয়োগ কার্যক্রম চলমান। ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় জামানতবিহীন ঋণ সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

ট্যানারির বর্জ্যে তৈরি পোলট্রি ও ফিশ ফিড মানবদেহে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন সংসদকে জানান, ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি পোলট্রি ও মাছের খাদ্য মানুষের শরীরে ক্যানসার, লিভার সিরোসিস, আলসার ও কিডনি রোগের মতো জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য। বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদন থেকে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ব্যবহৃত ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন ভারী ধাতু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কম খরচে পোলট্রি ও মাছের খাদ্য তৈরিতে ব্যবহার করে।

তিনি জানান, এ ধরনের খাদ্য খাওয়ানো মুরগির মাংস ও ডিমে বিষাক্ত ‘হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম’ জমা হয়, যা রান্নার তাপেও নষ্ট হয় না। এই ঝুঁকি মোকাবিলাতেই ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

‘অস্ত্র না, আমি যন্ত্রপাতি বলেছি’

সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় রূপান্তরিত করার ঘোষণা দেন। এ সময় অসাবধানতাবশত ‘জনবল ও অস্ত্র’ শব্দগুচ্ছ উচ্চারণ করায় সংসদে হাসির রোল পড়ে। মন্ত্রী তাৎক্ষণিক ভুল সংশোধন করে স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, স্যরি মানে মাননীয় স্পিকার স্যার সাহেব স্যরি। অস্ত্র না আমি বলেছি যন্ত্রপাতি। আর অস্ত্রোপচারের জন্য যন্ত্রপাতি এমনকি মাদার ব্রেস্টফিডিং কর্নারের পর্যন্ত প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশে কুকুরে কামড়ানোর ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই জানিয়ে তিনি বলেন, দেশব্যাপী ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭০০ ডোজ অ্যান্টি-র‌্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে। সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সারাদেশে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসকদের ৮ হাজার ১৫৯টি শূন্য পদ রয়েছে, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে পূরণ করা হবে।

২০২৯ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের দক্ষতায় চলবে চট্টগ্রাম বন্দর : নৌপরিবহনমন্ত্রী

সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সব কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক জট পুরোপুরি নিরসন হবে। পতেঙ্গা, লালদিয়া ও বে টার্মিনাল-২ ও ৩ এর কার্যক্রম শুরু হলে ২০২৯ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মতো দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হতে পারবে।

চট্টগ্রাম বন্দর একটি ফিডার পোর্ট হওয়ায় এখানে কাস্টমস পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কিছুটা বেশি লাগে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের ফলে এই সময় ইতোমধ্যে অনেকটাই কমেছে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালটি বর্তমানে বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

এ সময় সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম তথ্য সংশোধন করে বলেন, পতেঙ্গা টার্মিনাল পরিচালনা করছে সৌদি আরবভিত্তিক ‘রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল কোম্পানি’, পোর্ট অব সিঙ্গাপুর নয়। মন্ত্রী তার তথ্য পুনরুল্লেখ করে জানান, তিনি সৌদি কোম্পানির কথাই বুঝিয়েছেন এবং নতুন বে টার্মিনাল নির্মাণে দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড ও সিঙ্গাপুরের পিএসএর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও প্রবাসীদের জন্য সহজ ঋণ: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ বিধি ৭১-এর আওতায় আনীত নোটিশের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা যাচাই করা হচ্ছে। দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ১ লাখ দক্ষ চালক তৈরির প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং সাধারণ প্রবাসীদের জন্য ৮ শতাংশ সুদে জামানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। সাম্প্রতিক কাতার সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাতার টেকনিক্যাল খাতে (ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডার) বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ওমান ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে নতুন চুক্তি প্রক্রিয়াধীনের পাশাপাশি ইউরোপের সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া ও গ্রিসেও নতুন বাজার খোঁজা হচ্ছে।

গম্ভীরাকে ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা

সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, ঐতিহ্যবাহী ‘গম্ভীরা’ পরিবেশনাকে ভবিষ্যতে ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে নমিনেশন ফাইল তৈরির বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে এটিকে জাতীয় বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ইনভেন্টরিতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এদিকে, সংসদ সদস্য আমির হামজার প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, শুধু কুষ্টিয়ার লালন শাহের স্মৃতিবিজড়িত এলাকাই নয়, বরং সমগ্র দেশকেই মাদকমুক্ত করার মহাপরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব, সরকারি দলের সম্মতি

দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সমস্যা সমাধান ও তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংসদে কার্যপ্রণালী-বিধির ১৪৭ বিধিতে একটি সাধারণ আলোচনা প্রস্তাব উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান। প্রস্তাবে প্রবাসীদের পাসপোর্ট, এনআইডি ও দূতাবাসসেবা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ‘সংসদীয় টাস্কফোর্স’ গঠনের দাবি জানান তিনি। বিরোধীদলীয় নেতার এই প্রস্তাবের সঙ্গে সরকারি দলের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ নীতিগত সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় নেতার মতো বক্তব্য রেখেছেন। প্রবাসীদের ‘বীরের মর্যাদা’ দেওয়ার যে প্রস্তাব তিনি করেছেন, সরকার তার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। তিনি জানান, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো দ্রুত গঠিত হলে বিষয়টি সেখানে আলোচনা করা যাবে। পাশাপাশি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় চাইলে এ বিষয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করতে পারে।

বিমানবন্দরে সমন্বিত ওয়ার্কিং কমিটি ও পাসপোর্ট সহজীকরণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে ঘোষণা করেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সম্মান ও অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণ, পররাষ্ট্র এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়কে নিয়ে একটি ‘সমন্বিত ওয়ার্কিং কমিটি’ গঠন করা হবে।

পাসপোর্ট ও এনআইডি জটিলতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিশ্বের ৭৩টি বাংলাদেশ মিশনের মধ্যে ইতোমধ্যে ৭১টিতে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু হয়েছে। প্রবাসীরা এখন এনআইডির পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়েও পাসপোর্টের আবেদন ও তথ্য সংশোধন করতে পারছেন। পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট ইস্যু এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আন্তর্জাতিক কুরিয়ারের মাধ্যমে মিশনে পাসপোর্ট পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই মালয়েশিয়া সফর করবেন, যেখানে দেশটির শ্রমবাজার আরও উন্মুক্ত করা এবং বাংলাদেশ থেকে অধিক জনশক্তি পাঠানোর বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে।

‘প্রবাসীরা টাকার মেশিন নন, দেশের বীর’: বিরোধীদলীয় নেতা

এর আগে আলোচনার সূত্রপাত করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসীদের শুধু ‘শ্রমিক’ বা ‘টাকার মেশিন’ হিসেবে না দেখে সম্মানজনক পরিচয়ে মূল্যায়ন করতে হবে। আর্থিক রেমিট্যান্সের পাশাপাশি ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ বা মেধা পাচার রোধে দেশে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, প্রবাসীরা বিদেশে সম্পত্তি নিয়ে হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতার শিকার হন এবং দেশে এসেও অনেক সময় ন্যায়বিচার পান না। এই টাস্কফোর্স গঠন করা হলে তারা বিভিন্ন দেশে গিয়ে প্রবাসীদের কথা শুনবে এবং বাস্তবসম্মত সুপারিশ দেবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘মাইগ্রেশন উইং’ চালু

আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রবাসীদের সমস্যা কোনো দলীয় বিষয় নয়, এটি জাতীয় সমস্যা। গত ১৭ বছরে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স ব্যবহার করা হলেও তাদের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই সৌদি আরবে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে এই সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, অবৈধ অভিবাসন ও প্রবাসীদের সমস্যা মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘মাইগ্রেশন উইং’ চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া লিবিয়া ও ভূমধ্যসাগর রুটে মানবপাচারকারী দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং বিদেশের ডিটেনশন সেন্টারে থাকা ৩৫০ থেকে ৪০০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

নতুন ১৮ দেশের সঙ্গে এমওইউ সই: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সম্ভাবনাময় ২৮টি শ্রমবাজারের মধ্যে ১৮টি দেশের সঙ্গে ইতোমধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে ৫৫টি ট্রেডের ১৩০টি পেশায় প্রশিক্ষণ এবং ৯টি বিদেশি ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া ও গ্রিসের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে ভিসা সেন্টারের যে জটিলতা রয়েছে, তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণা ও বিমান টিকিটের সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ প্রবাসী শ্রমিকদের নানা দুর্ভোগ ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভুয়া ও লাইসেন্সবিহীন রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়ে প্রতারণা করছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে বিদেশগামী বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যের পেছনে থাকা সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণে আনার এবং দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর শিকার প্রবাসীদের পরিবারকে দেশে পুনর্বাসনে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।

এসআর/এমএসএ