রাজধানীর মৌচাক এলাকার আনারকলি মার্কেটে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদার হত্যা মামলার অন্যতম দুই আসামি সিরাজ ও গোল্ডেন রাকিবকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
পৃথক অভিযানে লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৩।
বুধবার (১০ জুন) র্যাব-৩ মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার সিরাজ ও গোল্ডেন রাকিব হত্যা মামলার আসামি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এর আগে একই ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগ রিয়াজ ও আল আমিন নামে দুই সন্দেহভাজনকে আটক করে। গত মঙ্গলবার ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই জড়িতদের শনাক্তে মাঠে নামে পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রথমে ঢাকা থেকে রিয়াজ এবং পরে মুন্সিগঞ্জ থেকে আল আমিনকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যার কারণ ও ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনের একটি গলিতে একটি বিরোধের সালিশ বৈঠকে অংশ নিতে যান বিল্লাল হোসেন তালুকদার। সালিশ চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
একপর্যায়ে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল বিল্লালের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত বিল্লাল হোসেন তালুকদার রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মালিবাগে সোহাগ পরিবহনের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পূর্ববিরোধ, এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং সালিশকেন্দ্রিক বিরোধের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরইমধ্যে পুলিশ ও র্যাবের পৃথক অভিযানে চারজনকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জেইউ/জেডএস
