বিজ্ঞাপন

ট্রেনে ধূমপানে বাধা দেওয়ায় রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিএনপি নেতার বাকবিতণ্ডা

ট্রেনে ধূমপানে বাধা দেওয়ায় রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিএনপি নেতার বাকবিতণ্ডা

ট্রেনে ধূমপান নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেসে ধূমপান করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া। এ সময় কর্তব্যরত রেলকর্মীর সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, একজন রেলকর্মী জানান আপনি আমার ট্রেনে বিড়ি খেতে পারবেন না। তিনি বলেন কেন? এ সময় রেলকর্মী বলেন, ট্রেনে বিড়ি খাওয়া নিষেধ। তখন তিনি বলেন, নিষেধ এটা আমিও জানি। এ সময় রেল কর্মী ও এই বিএনপি নেতা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ট্রেনের একটি কেবিনের সামনে ওই যাত্রী ধূমপান করতে গেলে দায়িত্বে থাকা কন্ডাক্টর/গার্ড তাকে বাধা দেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেনের ভেতরে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেসে ধূমপানকে কেন্দ্র করে এক যাত্রী ও কর্তব্যরত রেলকর্মীর মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাধা দেওয়ার পর ওই যাত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে রেলকর্মীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, সিগারেট খাব, প্রয়োজনে জরিমানা করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীদের মধ্যেও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও এবং বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই যাত্রীর নাম ইদ্রিস মিয়া। জানা গেছে, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার আহ্বায়ক।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইদ্রিস মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এর পর অনেকবার চেষ্টা করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।

এদিকে সচেতন মহল মনে করেন, ট্রেনের ভেতরে ধূমপান আইনত নিষিদ্ধ। তাই এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তারা মনে করেন, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার আইন মেনে চলা এবং জনসাধারণের জন্য ইতিবাচক উদাহরণ সৃষ্টি করা উচিত। এর ব্যত্যয় ঘটলে তা আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা দুঃখজনক।

এমআর/জেআই/এমএন