বিজ্ঞাপন

ফের ব্রিফকেস হাতে নিয়ে সংসদে অর্থমন্ত্রী

ফের ব্রিফকেস হাতে নিয়ে সংসদে অর্থমন্ত্রী

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার জন্য ব্রিফকেস হাতে নিয়ে সংসদে প্রবেশ করেন মন্ত্রী। যদিও বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট পেশের সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ব্রিফকেস নিয়ে যাননি।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের আগে ব্রিফকেস বা ব্যাগ হাতে নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সংসদে যাওয়ার ঐতিহ্যটি বেশ পুরোনো। এটি মূলত একটি প্রতীকী রীতি। বিশ্বের সব দেশের বাজেট ঘোষণার দিন সে দেশের অর্থমন্ত্রী যখন সংসদে প্রবেশ করেন, তখন তার হাতে একটি জিনিস থাকবেই-সেটি হলো ব্রিফকেস। সেই ব্রিফকেস খুলে তিনি বাজেট বক্তৃতার লিখিত কপি বের করে পাঠ করেন। ফলে, সবার মনেই ব্রিফকেস নিয়ে একধরনের কৌতূহল থাকে। যুগ যুগ ধরে বিশ্বের সব দেশেই বাজেটের দিন এই দৃশ্যের বারবার পুনরাবৃত্তি হয়।

বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রীর হাতের ব্রিফকেস প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা আকবর আলি খানের বই ‘বাংলাদেশে বাজেট: অর্থনীতি ও রাজনীতি’-তে লিখেছেন, শিল্পবিপ্লবের পর ইংল্যান্ডের অর্থনীতি অনেক বড় হয়ে যায়। বাজেটবিষয়ক প্রস্তাবগুলো শুধু একটা মানিব্যাগে সংকুলান করা সম্ভব হচ্ছিল না, সে জন্য মানিব্যাগের জায়গায় আসে ব্রিফকেস।

আরও জানা যায়, বাজেট ব্রিফকেসের এই রীতি শুরু হয় ১৮ শতক থেকে। প্রথম শুরু হয় যুক্তরাজ্যে। বাজেটপ্রধানকে ব্রিফকেস খুলে বাজেট পেশ করতে বলা হতো। ১৮৬০ সালে ব্রিটেনের বাজেটপ্রধান উইলিয়াম ই গ্ল্যাডস্টোন লাল একটি ব্রিফকেস করে বাজেটসংক্রান্ত নথি নিয়ে আসেন। সেই ব্রিফকেসের ওপর সোনা দিয়ে রানির মুখের আদলের ছাপ দেওয়া ছিল। ওই একই ব্যাগ বহু সরকারের আমলেই ব্যবহার করা হয়।

প্রথা অনুযায়ী ‘লাল ব্রিফকেস’ হাতে বাজেট পেশ করতে সংসদে ঢোকেন অর্থ বিভাগের প্রধান। তবে এই রহস্যময় ব্রিফকেসের রং সব সময় লাল ছিল না, অনেক সময়ই তা বদলেছে। তবে রং যা-ই হোক না কেন, এই ব্রিফকেসকে বাজেটের প্রতীক ধরা হয়।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

এএইচআর/জেডএস

বিজ্ঞাপন