বিজ্ঞাপন

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্রী

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্রী

বাজেট বক্তব্যে সামষ্টিক অর্থনীতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনে তিনি এ চিত্র তুলে ধরেন।

আমির খসরু বলেন, আমি বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ের সঙ্গে বিএনপির পূর্বতন সরকারের সময়ের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকসমূহের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছি। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি'র প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল ছয় দশমিক ৭৮ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তীতে পতিত সরকারের সময়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা চার দশমিক ২২ শতাংশে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিন দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০০৫-০৬ সময়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল সাত দশমিক ১৭ শতাংশ, যা বেড়ে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছায়। সম্পদের অসম বণ্টন ব্যবস্থা, সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির কারণে অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়েছে।

তিনি বলেন, রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত নিম্ন পর্যায়ে রয়ে গেছে, এখনও তা আট শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছে। কর-জিডিপি অনুপাত ছয় দশমিক আট শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৩ দশমিক ছয় শতাংশ। পক্ষান্তরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ছয় লক্ষ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। ২০০৫ সালে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে মূলধন পর্যাপ্ততা ছিল সাত দশমিক ‍তিন শতাংশ, ২০২৫ সালের শেষে ঋণাত্মক অর্থাৎ, দুই দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

২০০৫-০৬ অর্থবছরের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮ দশমিক তিন শতাংশ থেকে অনেক কমে ২০২৪-২৫ এ ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশে নেমে এসেছে।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে এক লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এক লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে এক লাখ, ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা।

এ ছাড়া, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাত দশমিক পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানান।  

এএসএস/জেআই/এনএফ