অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের সামগ্রিক শিল্প খাতের বহুমুখী সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে স্থানীয় শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা সংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করছি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনে তিনি এ চিত্র তুলে ধরেন।
আমির খসরু বলেন, জনকল্যাণমূলক সেবা খাত যেমন হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানের জনগুরুত্ব বিবেচনায় উৎপাদনকারী শিল্পের ন্যায় সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও মূলধনি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে আগাম কর অব্যাহতি সুবিধা প্রদান করার প্রস্তাব করছি। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার খরচ কমবে।
তিনি বলেন, এছাড়া ইটিপি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক অব্যাহতি সুবিধা আগামী ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করছি।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’—প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা।
এএসএস/আরএফ/জেডএস
