বিজ্ঞাপন

ওটিপি শেয়ার নয়, গুজবও নয়; শিক্ষার্থীদের সতর্ক করল সিআইডি

ওটিপি শেয়ার নয়, গুজবও নয়; শিক্ষার্থীদের সতর্ক করল সিআইডি

একটি ভুল ক্লিক, একটি ওটিপি শেয়ার কিংবা যাচাই না করে কোনো তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া— এসব ছোট ভুলই বড় ধরনের সাইবার অপরাধের সুযোগ তৈরি করে। তাই ডিজিটাল দুনিয়ায় নিরাপদ থাকতে শিক্ষার্থীদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত ‘সাইবার অ্যাওয়ারনেস এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম’-এ এই আহ্বান জানান সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি সানা শামিনুর রহমান।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) এবং বিকাশ লিমিটেডের যৌথ সহযোগিতায় আয়োজিত এই সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি সানা শামিনুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রজন্ম একই সঙ্গে বাস্তব ও ডিজিটাল— দুই জগতেই বসবাস করছে। প্রযুক্তির বিস্তার যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনি তৈরি করেছে নতুন ধরনের ঝুঁকি ও অপরাধের ক্ষেত্র। ফলে প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি এর নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কেও সমানভাবে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

তিনি শিক্ষার্থীদের শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, ওটিপি ও পিন নম্বর গোপন রাখা, অপরিচিত কোনো লিংকে ক্লিক না করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

ডিআইজি সানা শামিনুর রহমান আরও বলেন, সাইবার অপরাধীরা সাধারণত মানুষের অসতর্কতাকেই সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে। তাই সচেতনতাই এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, কোনো তথ্য যাচাই করা ছাড়া শেয়ার করা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণই নয়, সমাজেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে তথ্যের সত্যতা যাচাই করে আচরণ করা জরুরি।

অনলাইন বুলিং, সাইবার হয়রানি ও ডিজিটাল অসদাচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার অন্যের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি শিক্ষার্থীদের পরিবার, বন্ধু ও সমাজে সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতার দূত হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং আশ্বস্ত করেন যে, অনলাইন প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল বা যেকোনো সাইবার অপরাধের শিকার হলে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার সব ধরনের সহায়তার জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।

dhakapost

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বলেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা এখান থেকে পাওয়া জ্ঞান নিজেদের পাশাপাশি পরিবার ও পরিচিতজনদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে পারবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি জাহিদুল ইসলাম বলেন, সাইবার নিরাপত্তা এখন আর শুধু প্রযুক্তিবিদদের আলোচনার বিষয় নয়; এটি প্রতিটি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও নাগরিকের জন্য অপরিহার্য জীবনদক্ষতায় পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি এর ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ গড়ে তোলাই সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

বিশেষ পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেবে। তাই প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে, যাতে কেউ ডিজিটাল প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার না হয়।

বিকাশের ইভিপি ও হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স এ কে এম মনিরুল করিম বলেন, মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সেবার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। তবে, মানুষের সচেতনতা বাড়ায় প্রতারকদের সুযোগ আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমানে একজন শিক্ষার্থীর হাতে থাকা স্মার্টফোনে যেমন শিক্ষা, যোগাযোগ ও আর্থিক সেবার বিশাল সুযোগ রয়েছে, তেমনি রয়েছে ফিশিং লিংক, ভুয়া অফার, পরিচয় চুরি ও সাইবার বুলিংয়ের ঝুঁকিও। তাই সচেতনতাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।

‘থিংক টোয়াইস বিফোর ইউ ক্লিক; সাইবার নলেজ ইজ ইয়োর বেস্ট ফায়ারওয়াল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ডিজিটাল আচরণ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।

জেইউ/এসএএস