বিজ্ঞাপন

খালকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা বন্ধ করতে হবে : চসিক মেয়র

খালকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা বন্ধ করতে হবে : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে খাল পুনরুদ্ধার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেছেন, খাল ও জলাধারের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে না পারলে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য খাল দখলমুক্ত করার পাশাপাশি নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। খালকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা বন্ধ করতে হবে

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নগরীর ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডের ওয়াইজারপাড়া এলাকায় বির্জা খালের ডাইভারশন ও সেকেন্ডারি অংশ, কৃষি খাল এবং সুরভি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৬ সালের বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

মেয়র বলেন, বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে নগরীর বিভিন্ন খাল পরিষ্কার ও খননের কাজ জোরদার করা হয়েছে। কোথাও যাতে বৃষ্টির পানি আটকে না থাকে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে খালগুলোতে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা, অবৈধ স্থাপনা ও দখলের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

ডা. শাহাদাত বলেন, সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও নাগরিকদের অসচেতনতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। খালকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা বন্ধ করতে হবে। জনগণের মধ্যে নাগরিক দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা সৃষ্টি না হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে নগরীর বহু খাল দখল হয়ে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। কোথাও খালের ওপর স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, আবার কোথাও খালের জায়গা ভরাট করে প্লট তৈরি করা হয়েছে। এসব অবৈধ দখল জলাবদ্ধতা সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলছে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রামের অনেক খাল রাজনৈতিক প্রভাব ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে সংকুচিত কিংবা বিলীন হয়ে গেছে। খাল ও নদী দখলের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হবে। যারা খাল দখল করেছেন, তাদের নগরীর বৃহত্তর স্বার্থে দখল ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নগরীর ৩৬টি খালের সংস্কারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন করে আরও খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হচ্ছে, যার আওতায় প্রয়োজনে ৩০ থেকে ৫০টি খাল অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। পাশাপাশি খননকৃত খালগুলোতে পানি প্রবাহ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

খাল দখল উচ্ছেদের বিষয়ে মেয়র বলেন, নদী রক্ষা কমিশন, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনও অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় খাল পুনরুদ্ধার ও উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এমআর/আরএফ/এমএন