বিজ্ঞাপন

বাজেট গতানুগতিক হয়েছে : রুমিন ফারহানা

বাজেট গতানুগতিক হয়েছে : রুমিন ফারহানা

বাজেটকে গতানুগতিক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সাবেক নেত্রী ও সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এবারের বাজেটও আগের মতোই গতানুগতিক ধারায় তৈরি হয়েছে। সরকার সাধারণত আগের বছরের তুলনায় বড় অঙ্কের বাজেট ঘোষণা করেছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এবারের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে বাজেট অধিবেশনের শেষে সংসদ থেকে বের হয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাত তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেখানে বরাদ্দ কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছায়নি। শিক্ষা খাতে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে আরও কম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক নিচে। এতে করে এই দুই খাতে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হবে না।

সামাজিক সুরক্ষা খাত তিনি প্রশ্ন তোলে রুমিন ফারহানা বলেন, সরকার প্রায় এক লাখ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেখালেও এর বড় একটি অংশ পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য খাতে চলে যায়। প্রকৃতভাবে প্রান্তিক মানুষের জন্য ভাতা যেমন প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা ইত্যাদির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ সামাজিক সুরক্ষায় কিছুটা ইতিবাচক হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। জিডিপির আকার বাড়লেও সেই অনুপাতে সামাজিক সুরক্ষার অংশ খুব বেশি বাড়েনি।

বৈদেশিক ঋণ প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, এটি মূলত একটি আকাঙ্ক্ষার জায়গা। আইএমএফ-এর কাছ থেকে প্রত্যাশিত ঋণ না পাওয়ায় সরকার বিকল্প উৎসের দিকে যাচ্ছে, যেখানে সুদের হার তুলনামূলক বেশি। বিনিয়োগের পরিবেশ দুর্বল হওয়ায় ঋণনির্ভরতা বেড়ে যাচ্ছে, যা কমিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে যাওয়া উচিত। এই বাজেট জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে খুব বেশি ভিন্ন কিছু নয়, এটি মূলত গতানুগতিক ধারারই প্রতিফলন।

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নিয় সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে কম হওয়ায় উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হতে পারে। পুরো বাজেটের বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তবে কিছু ইতিবাচক দিকও আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কিছু শুল্ক কমানোয় দাম কিছুটা কমার আশা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এমএসআই/এমএন