বিজ্ঞাপন

বিএসআরইএ

নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুবিধা সীমিত গোষ্ঠীর মধ্যে আটকে গেছে

নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুবিধা সীমিত গোষ্ঠীর মধ্যে আটকে গেছে

জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর ও শুল্ক সুবিধা ঘোষণার পর ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হলেও বাস্তবে এসব সুবিধা সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)

রোববার (১৪ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন– বিএসআরইএর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহিদুল আলম, সহ-সভাপতি এম এ তাহের, সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউর রহমান সরকার রোজেল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বাজেট ঘোষণার পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জারিকৃত এসআরও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘোষিত সুবিধাগুলো মূলত নির্দিষ্ট কিছু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং রেস্কো মডেলের আওতায় পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ) ভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য করা হয়েছে। ফলে আবাসিক, কৃষি (সোলার সেচ), ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক গ্রাহকসহ বৃহৎ অংশের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী এবং খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

‘দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাজারের সবচেয়ে বড় অংশ গড়ে উঠেছে আমদানিকারক, পরিবেশক, ডিলার, খুচরা ব্যবসায়ী, ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) প্রতিষ্ঠান এবং নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকারী গ্রাহকদের মাধ্যমে। অথচ বর্তমান প্রণোদনা কাঠামোতে তাদের জন্য কার্যকর কোনো সুবিধা রাখা হয়নি। বর্তমান এসআরও কাঠামোর ফলে সীমিতসংখ্যক রেসকো কোম্পানি সুবিধা পেলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সঙ্গে জড়িত হাজারো আমদানিকারক, ডিলার, খুচরা ব্যবসায়ী ও ইপিসি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা এবং কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।’

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে সৌর প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বাজারে পণ্যের দাম কমেছে। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ সৌর পণ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক ও কর কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। এতে বাজারে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক চাপের মুখে পড়ছেন।

এছাড়া চলতি বাজেট ও সংশ্লিষ্ট এসআরওতে সোলার ইরিগেশন, সোলার স্ট্রিট লাইট এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) খাতের জন্য কার্যকর নতুন কোনো প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। দেশে প্রায় ১৭ লাখ ডিজেলচালিত সেচ পাম্প থাকলেও সেগুলোকে সৌরচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য কোনো সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা আর্থিক প্রণোদনা বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি।

সংগঠনটি সোলার মডিউল, ইনভার্টার, ব্যাটারি স্টোরেজ, মাউন্টিং স্ট্রাকচার, ডিসি কেবল, কানেক্টর, স্মার্ট মিটারসহ সব নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ক্ষেত্রে সমান শুল্ক সুবিধা কার্যকর করা, অন্তত ১০ বছরের ট্যাক্স হলিডে ও আয়কর অব্যাহতি প্রদান, আবাসিক ও কৃষি (সোলার সেচ) গ্রাহকদের জন্য কর সুবিধা উন্মুক্ত করা এবং সোলার ইরিগেশন, সোলার হোম সিস্টেম, রুফটপ সোলার ও বিইএসএসকে জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণার দাবি জানায়।

ওএফএ/বিআরইউ