থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য নিরাপদ রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করতে আয়োজিত রক্তদান কর্মসূচিতে ১৭ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করেছে ইউএস-বাংলা গ্রুপ।
আন্তর্জাতিক রক্তদাতা দিবস উপলক্ষ্যে রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর উত্তরায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের করপোরেট কার্যালয়ে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত থ্যালাসেমিয়া বিষয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার এবং পরে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রক্তদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দিনের রক্তদান কার্যক্রমে মোট ১৭ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে, যা থ্যালাসেমিয়া রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় ব্যবহার করা হবে।

রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ইউএস–বাংলা গ্রুপের মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগের এক্সিকিউটিভ রাকিবুল ইসলাম বলেন, এর আগে আমি ২০ বার রক্তদান করেছেন, এবারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দিলাম ২১তম বার। প্রতিবার রক্তদানের সময় আমি মনে করি এটি শুধু এক ব্যাগ রক্ত নয়, বরং কারও জীবনে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার একটি সুযোগ। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের নিয়মিত রক্তের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি জানার পর এমন উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে প্রথমবারের মতো রক্তদান করেন ইউএস–বাংলা গ্রুপের মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার মির্জা সাদমান সামিত। তিনি বলেন, শুরুতে কিছুটা দ্বিধা ও শঙ্কা থাকলেও রক্তদানের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এক ধরনের আত্মতৃপ্তি অনুভব করেছেন। স্বেচ্ছায় রক্তদান এমন একটি মানবিক উদ্যোগ, যেখানে খুব অল্প সময় দিয়েই অন্য একজন মানুষের জীবনযুদ্ধে পাশে দাঁড়ানো যায়। প্রথম অভিজ্ঞতা ইতিবাচক হওয়ায় ভবিষ্যতেও নিয়মিত রক্তদানের সঙ্গে যুক্ত থাকার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
এর আগে, অনুষ্ঠিত সেমিনারে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. রাজিয়া সুলতানা বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তরোগ, যেখানে শরীরে স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না। ফলে রোগীদের অনেক ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার জন্য নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়।

তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলেও বাংলাদেশে এ হার ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। দেশে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ মানুষ এ রোগের বাহক এবং প্রতিবছর প্রায় ৬ থেকে ৮ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্ম নেয়।
ডা. রাজিয়া সুলতানা আরও বলেন, নিয়মিত চিকিৎসা, পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া রোগীরাও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তিনি স্বেচ্ছায় রক্তদানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
সেমিনারে ইউএস-বাংলা গ্রুপের চিফ অব মেডিক্যাল সার্ভিস ডা. এস এম কাউসার নাহিদ বলেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠানে সাধারণত বিনিয়োগ ও মুনাফার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়, কিন্তু রক্তদান এমন একটি মানবিক উদ্যোগ যার মাধ্যমে একজন মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের প্রতি দুই থেকে চার সপ্তাহ পরপর রক্তের প্রয়োজন হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রায় ১১ বছর ধরে ইউএস-বাংলা গ্রুপ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরএইচটি/আরএফ/এসএম
