কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার।
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ খাতগুলোতে সরকারের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। বরাদ্দ করা অর্থ কতটুকু কার্যকরভাবে প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে, সে বিষয়ে গবেষণা ও মূল্যায়নকে সরকার সবসময় ইতিবাচকভাবে নেয়। কারণ তথ্যভিত্তিক গবেষণা ও সুপারিশ নীতি নির্ধারণে কার্যকর সহায়তা দেয়।
কৃষিমন্ত্রী জানান, সরকার কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করেছে। কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক ও টেকসই খাতে পরিণত করতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পাটবীজ, পেঁয়াজের বীজ ও আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাটির অম্লতা কমানো এবং সারের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডিজেল ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আমদানি-নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তি সরবরাহ, ফল ও সবজি সংরক্ষণের জন্য মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, বস্তায় আদা চাষ সম্প্রসারণ, চুক্তিভিত্তিক পাটবীজ উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষক কার্ড ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষিকে আরও বাণিজ্যিক ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উচ্চমূল্যের ও রপ্তানিমুখী ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্যাকিং হাউস, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, কোয়ারেন্টাইন সুবিধা এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষক কৃষি পণ্যের ন্যয্যমূল্য যাতে পায় সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। চাহিদার প্রকৃত তথ্য না থাকায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশ আগামী দেড় বছরের মধ্যে পেঁয়াজ আমদানি থেকে বেরিয়ে আসবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে আদা, রসুন উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। পাট ও পিঁয়াজ বীজের আমদানি নির্ভরতা থেকেও পর্যায়ক্রমে বেরিয়ে আসা হবে।
এসএইচআর/এসএএস/জেডএস
