বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীদের ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ও অতিরিক্ত ফি অবিলম্বে প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে ‘লাইসেন্সধারী বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র মালিক সমিতি বাংলাদেশ’।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনটির মুখপাত্র মাহবুব এ খোদা জুয়েল।
সংগঠনটির অন্য দুটি দাবি হচ্ছে– যোগ্য নাগরিকদের জন্য লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং লাইসেন্সধারীদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ও নিরাপত্তা বান্ধব ফি কাঠামো প্রণয়ন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল কোনো দেশেই আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের নজির নেই। বাংলাদেশে বর্তমানে পিস্তল ও রিভলভারের লাইসেন্স নবায়ন ফি ২০ হাজার টাকা এবং শটগান ও রাইফেলের জন্য ১০ হাজার টাকা, যা ইতোমধ্যেই তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। প্রস্তাবিত কর কার্যকর হলে, তা সাধারণ লাইসেন্সধারীদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মাহবুব এ খোদা জুয়েল বলেন, বৈধ অস্ত্রধারীরা অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ প্রতিরোধে পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেন। অতিরিক্ত করের কারণে যদি মানুষ লাইসেন্সধারী অস্ত্র জমা দিতে বাধ্য হন, তাহলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। এমনকি গ্রামে অনেক লাইসেন্সধারী ব্যক্তি ডাকাতি বা যে–কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে প্রথমে এগিয়ে আসেন।
শুটিং খেলাধুলার প্রসঙ্গ টেনে মাহবুব এ খোদা জুয়েল বলেন, অতিরিক্ত কর আরোপের ফলে সম্ভাবনাময় শুটারদের একটি বড় অংশ নিরুৎসাহিত হতে পারেন, যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ক্ষতিকর হবে। অতিরিক্ত ফি হওয়ার ফলে শুটিং ক্লাবের সদস্যরা বাধ্য হবেন অস্ত্র জমা দিতে। সেখানে যেমন একদিকে সরকারের রাজস্ব খাত কমে যাবে, তেমনি ক্রীড়াঙ্গনে শুটারের সংখ্যা কমে যাবে, তারা নিরুৎসাহিত হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক আরিফ উল ইসলাম সোহেল বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রস্তাবিত কর ও বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির অন্যান্য নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে পিস্তল ও রিভলভারের জন্য বার্ষিক এক লাখ টাকা এবং শটগান ও রাইফেলের জন্য ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আরোপের সিদ্ধান্ত সাধারণ লাইসেন্সধারীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ও অযৌক্তিক। এ সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তারা।
এমএইচএন/জেআই
