বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেছেন, তামাকজনিত রোগ, অকালমৃত্যু ও অর্থনৈতিক ক্ষতি দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তামাক নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও এর কার্যকর বাস্তবায়নে প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারি ও বেসরকারি সব পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।

আজ (মঙ্গলবার) বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত র‍্যালি, আলোচনা সভা এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে করণীয় শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘মুখোশ ভাঙো, আসক্তি ছাড়ো, তামাক-নিকোটিনমুক্ত জীবন গড়ো’। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং তামাক সংশ্লিষ্টদের বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের প্রবণতা উদ্বেগজনক। ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণ, তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করা এবং তামাক কোম্পানির প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তামাক চাষের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, তামাক চাষে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান ও কীটনাশক পরিবেশ ও নদীর পানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর প্রতিবেশ রক্ষায় তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

তিনি আরও বলেন, যুব সমাজকে তামাক ও মাদক থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়া কার্যক্রম বাড়াতে হবে। খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও ইতিবাচক জীবনবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সেমিনারে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ক্যানসার, হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগের অন্যতম কারণ। তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ২৮টি জেলা টাস্কফোর্স সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময়ে ২০৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩০৪টি মামলায় ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, তামাক ও মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে। তরুণদের সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সেমিনারে জানানো হয়, দেশে বছরে এক লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে মারা যায়। প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে। এ ছাড়া, কোটি কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, এনজিও প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের আগে সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে একটি র‍্যালি বের হয়ে কাজীর দেউড়ি মোড় ঘুরে পুনরায় সার্কিট হাউসে এসে শেষ হয়।

এমআর/এসএএস/এনএফ