বিজ্ঞাপন

শুধু স্লোগান নয়, বিরোধী দলের গঠনমূলক সমাধান নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া উচিত

শুধু স্লোগান নয়, বিরোধী দলের গঠনমূলক সমাধান নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া উচিত

বাজেট নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের শুধু স্লোগান নয়, গঠনমূলক সমাধান নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সরকারী দলের সংসদ সদস্যরা। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল তিনটার পর বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। প্রথমে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম সভাপতিত্ব করলেও সন্ধ্যায় সেশন সভাপতিত্ব করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল। 

বাজেট অধিবেশনে প্রথমে প্রশ্নোত্তর টেবিল উত্থাপিত হয়। জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও জানান মন্ত্রী। 

চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পর (সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে) দেশজুড়ে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ এবং নবগঠিত বগুড়াসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যার মধ্যে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘বাজেটের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে এই নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন হবে। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও একই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।’

সরকার দলীয় এমপি মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দেশের সব উপজেলায় সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মচারীদের জন্য উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে একটি পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা পরিষদের অনুকূলে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনে দৈনিক পানির চাহিদা ৩২০ থেকে ৩২৫ কোটি লিটার। যদিও গ্রীষ্ম ও শীত মৌসুমে পানির চাহিদার তারতম্য হয়ে থাকে। ঢাকা ওয়াসার বর্তমান দৈনিক পানি উৎপাদন সক্ষমতা ২৯৫ থেকে ৩০০ কোটি লিটার।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, পানি বিশুদ্ধকরণের কাজটি অত্যাধুনিক কেমিক্যাল পিএসি অ্যালাম সালফেট ও ক্লোরিনেশনের মাধ্যমে পরিশোধন করা হয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করে ওয়াসার নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে পানির গুণগত মান নিশ্চিত হওয়ার পর তা নেটওয়ার্কে সরবরাহ করা হয়। ঢাকা ওয়াসা মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০টি পানির নমুনা সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্যারামিটার পরীক্ষা করে পানির গুণগত মান নিশ্চিত করে থাকে।

সংসদ সদস্য সেলিমা রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বাসাবাড়ির বর্জ্য বর্তমানে বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমকে চুক্তিভিত্তিক ও আরও সুশৃঙ্খল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ছোট আকারের কাভার্ড ভ্যানের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উপায়ে বর্জ্য অপসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

জাতীয় সংসদে প্রবেশের সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর দীর্ঘদিনের সংসদীয় রীতি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, এই ঝুঁকন্তি বা মাথা ঝোঁকানোর বিষয়টি ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং শিরকের কাছাকাছি। এর জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেন, এটি মূলত সবার ব্যক্তিগত বিষয় এবং সারা পৃথিবীর সংসদেই এমন রীতি রয়েছে। তবে বিগত সংসদে কার্যপ্রণালি বিধি থেকে এটি বাদ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা তিনি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সফটওয়্যার ভার্সন ২ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন সিস্টেমে অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের ব্যবস্থা রাখা হবে। জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন সেবা সহজীকরণ ও জনভোগান্তি দূরীকরণের লক্ষ্যে সারা দেশের নিবন্ধক ও নিবন্ধন সহকারীগণের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, মোবাইল আসক্তি, মাদকাসক্তিসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করতে প্রতিটি জেলায় কর্মশালা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, যুবসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

অধিবেশনে প্রবেশকালে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান দেখানোতে আপত্তি জামায়াত এমপির

‎জাতীয় সংসদে প্রবেশের সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর রীতি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান। জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে তিনি এই আপত্তি তুলে ধরেন। সাধারণত সংসদ সদস্যরা সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান দেখান। অনেকে সালাম করেন।

বৈঠকের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মুজিবুর রহমান বলেন, ‘তৃতীয় জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধিতে সংসদে ঢোকার পরে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করে ঢোকার কথা...। এরপরে এটা নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা হয়েছে। আমিও ছিলাম অতীতে। শেষ পর্যন্ত একটা সংশোধনী এর ভেতরে আছে। সেটা হচ্ছে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করার ব্যাপারটা... এটা ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, শিরকের কাছে চলে যায়, সে জন্য এটাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’

স্পিকারকে উদ্দেশ করে এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘আমি মাঝেমধ্যে খেয়াল করি, আপনি সুন্দরভাবে সালাম দেন। আমরাও সালাম দেই, জবাব দেই। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় আগের ঝুঁকন্তিটা এখনো আছে। আপনারও আছে, মাননীয় ডেপুটি স্পিকারেরও আছে।’

তিনি বলেন, ‘কার্যপ্রণালি বিধিতে শিরককে উৎখাত করার জন্য যে বিধি করা হয়েছে আমার মনে হয় সেটা সবার মেনে চলা উচিত। এতে নেকি হবে। গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা যাবে, কাল–কেয়ামতে এটা থেকে আমরা উপকার লাভ করব।’

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি কার্যপ্রণালি বিধি আরেকটু দেখে এ বিষয়ে জানাবেন। তবে স্পিকার বলেন, ‘এটা সবার জন্য ব্যক্তিগত বিষয়। কেউ সালাম দেবে, কেউ মাথা ঝোঁকাবে। সারা পৃথিবীর সংসদে এ রকম আছে।’ এরপরও বিগত সংসদে এটা বাতিল করা হয়েছে কি না সেটি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন স্পিকার।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি ও নিয়ম অনুসরণ করে বক্তব্য দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। স্পিকার বলেছেন, সংসদ হুটহাট করে কথা বলার জায়গা নয়। এখানে কথা বলতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময় মেনে চলতে হবে। রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান এবং রংপুর-৬ আসনরে সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন পয়েন্ট অফ অর্ডারে বক্তব্য রাখার পরে স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, ‘সংসদ চলে রুলস অফ প্রসিডিউর ও সংবিধানের ওপর ভিত্তি করে। এখানে ৩৫০ জন সদস্যই সমান পারদর্শী এবং সবারই বক্তব্য দেওয়ার অধিকার আছে। তবে সমস্যা অন্তহীন হলেও সংসদ চলে নির্দিষ্ট আইন-কানুনের মধ্যে।’

সংসদ হুটহাট কথা বলার জায়গা নয় উল্লেখ করে সংসদ সদস্যদের রুলস অব প্রসিডিউর ও কার্যপ্রণালি বিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাজেট অধিবেশন চলাকালে সাধারণত পয়েন্ট অব অর্ডার দেওয়া হয় না এবং এটি উত্থাপনের সুনির্দিষ্ট সময় হলো প্রশ্নকাল শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই। এছাড়া বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার সরকারের দেওয়া একটি উপমার কিছু শব্দকে ‘অরুচিকর ও অশ্লীল’ হিসেবে গণ্য করে তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাতিল) করার নির্দেশ দেন স্পিকার।

পয়েন্ট অব অর্ডার তোলার সঠিক সময় সম্পর্কে স্পিকার বলেন, ‘পয়েন্ট অব অর্ডার রেইজ (উত্থাপন) করার নির্দিষ্ট সময় হলো প্রশ্নকাল শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই। বাজেট অধিবেশন চলাকালে সাধারণত পয়েন্ট অব অর্ডার দেওয়া হয় না, কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন এবং এখানে দীর্ঘ সময় বক্তব্য রাখতে হয়। যখন ইচ্ছা দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়ে দেওয়া সংসদে চলে না।’

সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের তোলা একটি প্রসঙ্গের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘উনি (মুজিবুর রহমান) দেখেছেন আমি মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেছি, যা উনার কাছে সংসদীয় রীতির পরিপন্থি মনে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি পয়েন্ট অব অর্ডার তুলেছেন। 

সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন পয়েন্ট অফ অর্ডারের বিষয়ে স্পিকার বলেন, আমি আপনার সেন্টিমেন্টের প্রশংসা করি। আপনি শিক্ষক এবং বেতন না পাওয়া পৌর কর্মচারীদের দুঃখ-দুর্দশার কথা বলেছেন। কিন্তু সবকিছুর একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সংসদ মুখোমুখি চালানো যায় না। কোনও বিষয়ে আলোচনা করতে হলে আগে নোটিশ দিতে হয়। আপনি যদি নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দিতেন, তবে আমরা হয়তো বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করতে পারতাম। সুতরাং, ভবিষ্যতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুসরণ করে দাঁড়ানোর জন্য আপনাদের কাছে সবিনয় নিবেদন রইলো।’

সদস্যদের উদ্দেশ্যে স্পিকার আরও মনে করিয়ে দেন যে, পয়েন্ট অব অর্ডার কেবল চলমান বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই হওয়া উচিত এবং সংসদীয় রীতিনীতি বজায় রাখা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যের কিছু অংশকে ‘অরুচিকর ও অশ্লীল’ উল্লেখ করে তা কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাতিল) করার নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার সরকার একটি উপমা ব্যবহার করেন। তিনি একটি গল্প তুলে ধরে বলেন, ‘আমি প্রস্তাবনা পেশ করছি মাননীয় স্পিকার এক একটা গল্প বলতে হয়, চালুনি এবং সুচের কথোপকথন। চালুনি সূচকে বলে যে তোমার পাছায় তো ফোটা, তুমি আবার বড় কথা বল কীভাবে? সুচ কে বলে চালুনিরে তুমি শুধু আমার একটা ফোটা দেখো কিন্তু তোমার পাছায় যে হাজারও ফোটা। সেক্ষেত্রে তোমার কোনো নজর নেই। এ সময় মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। আবার মাইক পেয়ে একই উধাহরণ তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য।

এ সময় উপমায় ব্যবহৃত কিছু শব্দের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে স্পিকার তাকে সতর্ক করেন। স্পিকার বলেন, বক্তব্য রাখার সময় সাবধানতা অবলম্বন করবেন। অরুচিকর অশ্লীল কোনও কথা এই সংসদে উচ্চারিত হোক এটা আমরা চাই না। আপনার বক্তব্যে কিছু অশ্লীল শব্দ রয়েছে সেগুলো এক্সপেন্স করা হলো।

বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের সাহসী রূপরেখা এবারের বাজেট : সংসদে নিপুন রায়

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের সাহসী রূপরেখা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী।

নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা অতিক্রম করে একটি কল্যাণমুখী ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের যে রূপরেখা অর্থমন্ত্রী উপস্থাপন করেছেন, তা প্রশংসার দাবিদার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।

নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, সমালোচকরা বাজেট ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন, তবে একটি ভাঙা অর্থনীতিকে পুনর্গঠনে কিছু ব্যয় অনিবার্য। বাজেটের সবচেয়ে বড় শক্তি এর বহুমাত্রিকতা। কন্টেন্ট নির্মাতা, কৃষক, কর্মজীবী নারী, প্রবাসী, শিক্ষার্থী ও রোগীসহ প্রায় সব স্তরের মানুষের প্রয়োজন এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, সব ধরনের কন্টেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয় করমুক্ত রাখা এবং ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব তরুণদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার।

শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল সম্প্রসারণ, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সক্ষমতায় বিনিয়োগ।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের সাহসী রূপরেখা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত এই বাজেটে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন ব্যয় এবং শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রশংসা করেন তিনি। তরুণদের জন্য কন্টেন্ট ক্রিয়েশন করমুক্ত রাখা, ফ্রিল্যান্সিংয়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার এবং নারীর ক্ষমতায়নে ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ড ও ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ তুলে নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, নারীর নামে ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কর সুবিধা নারীর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াবে।

কর্মজীবী নারীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে নারীর কর্মঘণ্টা কমানোর যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তার পরিবর্তে বর্তমান সরকার বাস্তবসম্মত সমাধান হিসেবে প্রথম পর্যায়ে ২০টি এবং পরবর্তী পর্যায়ে ৬০টি আধুনিক ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

নারীদের মাসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্যানিটারি ন্যাপকিনের কাঁচামাল আমদানিতে কর সুবিধা বহাল রাখা হলেও এর মূল্য ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি স্যানিটারি ন্যাপকিনকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান।

নিপুন রায় চৌধুরী আরও বলেন, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সার ও কৃষি উপকরণে সহায়তা, ক্যানসারের ওষুধ, হার্টের রিং ও ডায়ালাইসিস ফিল্টারে কর হ্রাস, প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড এবং দক্ষ কর্মীদের জন্য স্মার্ট স্কিল ব্যাংক চালুর উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, শুধু স্লোগান নয়, গঠনমূলক সমাধান নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া উচিত। 

নিপুন রায় চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, বাজেট বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে এবং তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এমএসআই/বিআরইউ