রাজধানীর বনানী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ১৪ আসামির মধ্যে ১৩ জনের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার অপর আসামি মোঃ তাইবুর সাইফ অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বয়স বিবেচনায় তাকে রিমান্ড না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জুয়েল রানা তিনদিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের।
রিমান্ডে যাওয়া ১৩ আসামি হলেন— মোতাহের হোসেন শুভ, মারুফুল ইসলাম, তানভীর আহম্মেদ সানী, ওয়ালিউল্লাহ ফারুক আদর, মোঃ সামির চৌধুরী লিয়ন, মোঃ ইমন আলী খান, মোঃ ইয়াছিন আরাফাত আবির, মোঃ সিফাত রহমান, ইয়ামিন আরাফাত নিহাদ, মোঃ নাজমুল সরকার, মোঃ আবির হোসেন, মো. তৌকির তারেক আয়াজ এবং মোঃ হাবিবুর রহমান।
মঙ্গলবার আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে, শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করে বলেন, আসামিরা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন এবং তাদের কোনো পদ-পদবী নেই। ঘটনার দিন তারা মূলত একসাথে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলা দেখছিলেন।
রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ মে সকাল ৪ টার দিকে বনানী নেভী হেডকোয়ার্টারের সামনে কতিপয় আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সম্পর্কিত ব্যানারে বেআইনিভাবে মিছিল করে। এসময় আশিক তফাদার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার পরবর্তী মামলার তদন্ত সূত্রে গত ১৩ জুন সকালে বনানী নেভী হেডকোয়ার্টারের সামনে একটি মাইক্রোবাস থেকে এই ১৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠনের সক্রিয় সদস্য এবং তারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও উৎখাতের লক্ষ্যে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ করছিলেন। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ২৪টি পিভিসি পোস্টার, একটি মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং অর্থ জোগানদাতাদের সনাক্ত করতে আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন।
এনআর/এমটিআই
