বিজ্ঞাপন

জীবন বাঁচাতে বৈদ্যুতিক সেফটি সুইচ (আরসিডি) স্থাপনের আহ্বান

জীবন বাঁচাতে বৈদ্যুতিক সেফটি সুইচ (আরসিডি) স্থাপনের আহ্বান

বাসাবাড়ি, দোকানপাট, অফিস-আদালত এবং শিল্পকারখানায় বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রোধে ‘রেসিডিউয়াল কারেন্ট ডিভাইস’ (আরসিডি) বা ‘সেফটি সুইচ’ স্থাপন এবং নিয়মিত পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া-প্রবাসী বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মো. শামছুল হুদা সরকার (রাজু)।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত সচেতনমূলক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

শামছুল হুদা সরকার বলেন, বিদ্যুতের ঝুঁকি অনেক সময় খালি চোখে দেখা যায় না। ত্রুটিপূর্ণ বা ছেঁড়া তার, পানির সংস্পর্শে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং দেয়ালের ভেতরে থাকা তারে ড্রিল বা পেরেক লাগানোর মতো কারণে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সাধারণ সার্কিট ব্রেকার শর্টসার্কিট বা অতিরিক্ত লোড থেকে সুরক্ষা দিলেও মানুষের জীবন রক্ষায় কার্যকর নয়। এ ক্ষেত্রে আরসিডি বা সেফটি সুইচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ মানুষের শরীরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করলে আরসিডি মাত্র কয়েক মিলিসেকেন্ডের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, ফলে প্রাণহানির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

অস্ট্রেলিয়ায় ২৬ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে সেফটি সুইচ ছাড়া কোনো বৈদ্যুতিক স্থাপনাকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। বাংলাদেশেও এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। আমার এক নিকটাত্মীয় একটি গার্মেন্টস কারখানায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সেফটি সুইচ থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেক ক্ষেত্রে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জনগণের প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। এর মধ্যে রয়েছে— ঘরের মেইন ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ডে আরসিডি স্থাপন নিশ্চিত করা, প্রতি মাসে ‘টেস্ট’ বাটন চেপে আরসিডির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের আগে তারের অবস্থা যাচাই করা এবং সব ধরনের বৈদ্যুতিক কাজের জন্য দক্ষ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ানের সহায়তা নেওয়া।

সরকারের প্রতি তিনি জাতীয় পর্যায়ে একটি আধুনিক বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বিধিমালা প্রণয়ন, নতুন ভবনে আরসিডি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায় নিয়মিত ইলেকট্রিক্যাল সেফটি অডিট পরিচালনা, মানহীন বৈদ্যুতিক পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, একটি সেফটি সুইচ একটি পরিবারের জীবন বাঁচাতে পারে। সামান্য অসতর্কতা যেন কোনো পরিবারের আজীবনের কান্নার কারণ না হয়। নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

শামছুল হুদা সরকার বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে উন্নয়নের ধারা শুরু করেছেন তার এই নতুন উন্নয়নের ধারণাগুলোকে আমি সাধুবাদ জানাই। আমার মনে হচ্ছে তার বিগত ১৭ বৎসরের অভিজ্ঞতা দেশ ও জাতির জন্য অক্ষরে অক্ষরে কাজে লাগাচ্ছেন। তিনি যখন যুক্তরাজ্যে বসবাস করেছেন সেই সময়ে হয়তবা এই সেফটি সুইচ সম্বন্ধে অবগত হয়েছেন।

আমাদের দেশের সরকারপ্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমার বিনীত আবেদন, জনজীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিল্ডিং টেকনিশিয়ানদের লাইসেন্স প্রদান, তাদের অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন এবং কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি স্বতন্ত্র ‘বিল্ডিং কমিশন’ প্রতিষ্ঠা করা হোক। আমি বিশ্বাস করি, এর মাধ্যমে নির্মাণ ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও পেশাগত মান আরও উন্নত হবে।

এমএইচএন/এমএন

বিজ্ঞাপন