ব্যাংক, হাসপাতাল ও পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার (১৭ জুন) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পশ্চিম বিভাগের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ড. রুহুল আমিন সরকারের নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দল রাজধানীর রাজারবাগ হাসপাতালের ভেতর থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. শাফায়াত হোসেন শেখ (৫৫) ও এনামুল হক আকবর (৬৩)। এর মধ্যে শাফায়াত হোসেন নিজেকে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট হিসেবে পরিচয় দিতেন।
বিকেলে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ড. রুহুল আমিন সরকার বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমি চাকরিপ্রার্থীর মামা সেজে সেখানে যাই। গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করি। পরে একজনের সঙ্গে দেখা হলে তাকে জিজ্ঞাসা করি, টাকা কাকে দিতে হবে। সে জানায়, আমার কাছে না আরেকজনের কাছে দিতে হবে। সে এটিও বলে যে, তারা আরও চার-পাঁচজনকে চাকরি দিয়েছে। আজ টাকা দিয়ে মেডিকেল চেকআপ করলে সন্ধ্যার দিকে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। এরপর আর আমরা তাদের ৫ লাখ টাকা দিতে চাই এবং বিনিময়ে তারা একটি চেক দিতে চায়। এরপর আমরা তাদের গ্রেপ্তার করি।
সিআইডি ঢাকা মেট্রো (পশ্চিম) অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জয়নুল আবেদীন বলেন, এই প্রতারক চক্র পুলিশের চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১০ থেকে ১১ লাখ টাকার চুক্তি করত। যারা পুলিশ কনস্টেবল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি ওদেরকেই এই চক্র টার্গেট করত। তারা শুধু এই পুলিশ কনস্টেবলের চাকরি নয় তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে, বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার জন্য একই কায়দায় প্রতারণা করতো। গ্রেপ্তারকৃত শাফায়েত হোসেন শেখ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট হিসেবে পরিচয় দিতেন। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং আরও কোনো ভুক্তভোগী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং চাকরিপ্রার্থীদের দেওয়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৫ লাখ টাকার একটি স্বাক্ষরিত চেক জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানতে পেরেছে, গ্রেপ্তারকৃত মো. শাফায়াত হোসেন শেখের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি, প্রতারণা ও হত্যা মামলা রয়েছে।
এসএএ/আরএফ
