বিজ্ঞাপন

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে সংসদে আলোচনা

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে সংসদে আলোচনা

মেহেরপুর –১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার প্রতিযোগিতার কারণে আমরা সংবাদপত্র গুলাতে ইতোমধ্যে দেখেছি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে, টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটা প্রতিদিনের রিপোর্ট আছে।

তবে সরকারি দলীয় সংসদ সদস্যের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে’ এই বিষয়টি সংসদে এক্সপাঞ্জ করা হয়।

নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এম মাহবুব উদ্দিন খোকন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি এক্সপাঞ্জ চাইলে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ধর্ষণের বিষয়টি এক্সপাঞ্জ করেন। তবে এ নিয়ে সিরাজগঞ্জ- ৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এক্সপাঞ্জ করার প্রতিবাদ জানান। এরপর ধর্ষণের বিষয়টি সংসদে আনা মেহেরপুর –১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান ধর্ষণের তথ্য তুলে ধরেন। জামায়াতের এই দুই নেতার বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার ‘ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে’ অংশটুকু এক্সপাঞ্জ করেন। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিন ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট আলোচনা এবং পয়েন্ট অর্ডারের আলোচনায় এই চিত্র উঠে আসে। 

মেহেরপুর –১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে বলা হয়েছে। ৪১ লাখ ফ্যামিলিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এটা হিসাব করলে ওয়ার্ড পিছু ৯০টা করে পরিবার কার্ড পাবে। তাহলে বাকি যে দরিদ্র ফ্যামিলিগুলো আছে তাদের অবস্থাটা কী হবে? এবং এটা পাওয়ার প্রতিযোগিতার কারণে আমরা সংবাদপত্রগুলোতে ইতোমধ্যে দেখেছি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটা প্রতিদিনের রিপোর্ট আছে।

বিষয়টি নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এম মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, মেহেরপুর -১ আসনের সংসদ সদস্য বলেছেন ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। এটা দুঃখজনক ব্যাপার। সংসদে এভাবে কথা বলা উচিত না। সংসদের ভাষা জানতে হবে। সেভাবে বলতে হবে। বক্তব্যটা স্পষ্ট করার জন্য আমি অনুরোধ করছি। পরে তিনি বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ চান। 

এ সময় ডেপুটি স্পিকার এম মাহবুবউদ্দিন খোকনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মাননীয় সদস্য আপনি বলতে চাচ্ছেন যে, আপনি মেহেরপুর-১ আসনের সদস্যের বক্তব্যটা এক্সপাঞ্জ চাচ্ছেন। এটাই তো আপনার বক্তব্য? এই স্টেটমেন্টটা এক্সপাঞ্জ করা হলো। 

এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে সিরাজগঞ্জ- ৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান মেহেরপুর –১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খানের বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সুযোগ চান। তিনি বলেন, ওনার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ হবে যদি উনি অসত্য তথ্য দিয়ে থাকেন, অথবা অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করে থাকেন। আমার ধারণা উনি এ ধরনের কথা বলেনেনি। কাজেই উনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হোক।

এরপর মেহেরপুর –১ আসনের সংসদ সদস্যকে কথা বলার সুযোগ দেন ডেপুটি স্পিকার। মেহেরপুর –১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান বলেন, আমার আলোচনার মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার বিষয়টি ব্যবহার করেছিলাম। অবশ্য এই কথাটার উপর মাননীয় সদস্য (এম মাহবুব উদ্দিন খোকন) আপত্তি করেছিলেন। আমার কাছে যে তথ্য ছিল তা সময়ের অভাবে দিতে পারিনি। ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল ফরিদপুরে সোনাগাজী থানাতে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা হয়। ওসি সাহেব এর প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বলে এটা প্রমাণ হয়েছে। পরে ২৫ এপ্রিল রংপুর মিঠাপুর উপজেলার ভাঙ্গা  ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপির সহ-সম্পাদক এনামুল হক তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কারণে। 

এরপর এম মাহবুব উদ্দিন খোকন দাঁড়িয়ে গেলে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাকে বসতে বলেন। ডেপুটি স্পিকার বলেন, আপনি একটু বসেন। আমি ওনাকে বলি। মাননীয় সদস্য ফ্যামিলি কার্ড যে প্রজেক্ট সেটা শুধু প্রধানমন্ত্রী বা এই সরকারের না বরং এটি সারা দেশের মানুষের। সো এই প্রজেক্ট সম্পর্কে যেহেতু একটা অভিযোগ এনেছেন কিন্তু সেটার কোনও ক্লারিফিকেশন দিতে পারেননি। সে কারণে ওনার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে যে, আপনি যে ধর্ষণের অভিযোগের কথা বলেছেন সেই লাইনটা এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে। 

এমএসআই/আরএফ