লিবিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণের অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সদস্য রাব্বানী ফরাজীকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার (১৭ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এই তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার রাব্বানী ফরাজী নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম অলিয়ার ফরাজী। কোতোয়ালি (ডিএমপি) থানায় দায়ের করা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, মানব পাচার ও মুক্তিপণের অর্থের মাধ্যমে গড়ে ওঠা অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে সিআইডি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। মানব পাচার এবং অর্থ পাচারের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
সিআইডি জানায়, কোতোয়ালি থানার একটি মানিলন্ডারিং মামলার তদন্তে রাব্বানী ফরাজীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর সিআইডির ফাইন্যানশিয়াল ক্রাইম ইউনিটের একটি বিশেষ দল গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, রাব্বানী ফরাজী ও তার ছোট ভাই রুবেল ফরাজী আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রটির মূলহোতা তাদের বড় ভাই আউয়াল ফরাজী। তারা বাংলাদেশ থেকে ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার আগ্রহী ব্যক্তিদের টার্গেট করে নানা প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাঠাত।
লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদের অবৈধভাবে আটক রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হতো। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন করে মুক্তিপণের অর্থ দাবি করা হতো। মুক্তিপণের টাকা না পাওয়া পর্যন্ত অনেককে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও জানান, মানব পাচার ও মুক্তিপণের অর্থের মাধ্যমে রাব্বানী ফরাজী এবং তার ভাই রুবেল ফরাজী নিজেদের ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রায় ৩০ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন করেছেন।
সিআইডির তদন্তে আরও প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দিয়ে তারা খুলনা শহরে বহুতল ভবন নির্মাণসহ বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি অর্জন করেছেন।
জসীম উদ্দিন খান জানান, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী আসামিদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের নামে অর্জিত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানব পাচার ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের উৎস, আর্থিক লেনদেনের নেটওয়ার্ক, চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সম্পৃক্ততা এবং বিদেশে অবস্থানরত সহযোগীদের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
সিআইডির এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মানব পাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলমান রয়েছে।
এসএএ/আরএফ/বিআরইউ
