সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, মেট্রো স্টেশনে অস্থায়ী দোকান থাকার কথা না। পোস্টার সাটানোরও কোনো সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরকে পোস্টারমুক্ত করতে চায় সরকার। কিন্তু অনেকেই আড়ালে-আবডালে, এমনকি রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন ও পোস্টার লাগিয়ে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, কোচিং সেন্টার, হোস্টেল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ছোট ছোট কাগজে ঠিকানা ও ফোন নম্বর ছাপিয়ে যত্রতত্র পোস্টার লাগানো হচ্ছে। কোথাও দড়ি টানিয়ে ফেস্টুন ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব করতে কারও অনুমতির প্রয়োজন বলে মনে করা হয় না, অন্যের অসুবিধা হচ্ছে কি না সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হয় না। এ ধরনের প্রবণতা বন্ধে নাগরিক সচেতনতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় কেউ যদি দেয়ালে পোস্টার লাগাতে দেখেন, তাহলে তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারেন। কারণ, যেখানে সেখানে পোস্টার লাগানোর অনুমতি নেই। যারা এ কাজ করেন, তাদেরও সচেতন করতে হবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, সিটি করপোরেশনকে এ বিষয়ে আরও সজাগ হতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহলের সময়ও নজর রাখা উচিত, যাতে কেউ রাস্তা, গাছ কিংবা রঙ করা দেয়ালে পোস্টার, ফেস্টুন বা ব্যানার লাগাতে না পারে।
এছাড়া নাগরিক হিসেবে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং যারা এ ধরনের কাজ করেন, তাদের সতর্ক বা নিরুৎসাহিত করাও আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমি যেগুলো বললাম সেটাই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফাংশন করা মানে তো সরকারেরই ফাংশন করা।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সড়ক মন্ত্রী জানান, পদ্মা সেতুর পিলারের কাছে মাটি অপসারণের বিষয়ে তিনি নিজেও খোঁজ নিয়েছেন। সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এবং সেতু প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের মতামত অনুযায়ী, ওই মাটি অপসারণে সেতুর কোনো ঝুঁকি নেই। বরং ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুযায়ী নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নাব্যতা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং পানি চলাচলের সুবিধার জন্য তা অপসারণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে ঢাকার বাস টার্মিনালগুলো শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে। মহাখালী টার্মিনালের জন্য উত্তরা সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৫০ বিঘা জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সায়েদাবাদ টার্মিনালের কার্যক্রম কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। গাবতলী টার্মিনালের জন্য ৩০০ ফুট এলাকায় ডিপো উন্নয়নের কাজ চলছে। ফুলবাড়িয়া টার্মিনালের কার্যক্রমও ধাপে ধাপে স্থানান্তর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কল্যাণপুর, কলাবাগানসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা বাস কাউন্টারগুলোও পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়া হবে। কাউন্টারের সামনে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামার সুযোগ বন্ধ করা হবে।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হক। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
এসএইচআর/এসএম
