নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত কর ও শুল্ক প্রণোদনার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১৮ মে) সিরডাপে ধরা কর্তৃক জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রণোদনা: টেকসই জ্বালানি-ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ভিত্তি শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এখন শুধু পরিবেশগত প্রয়োজন নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রাখার জন্যও জরুরি।
তিনি বলেন, বাজেটে ঘোষিত সহায়তাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৭ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ৩৪ শতাংশ। একই সময়ে দেশের জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাজেটে সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি আমদানিতে কর ও শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ব্যয় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। এর ফলে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়বে।
সভাপতির বক্তব্যে ধরা’র সহ-আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও বাড়াতে হবে।
ওএফএ/বিআরইউ
