বিজ্ঞাপন

শ্রমিকবান্ধব বাজেট ও সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার দাবি জাতীয় শ্রমিক শক্তির

শ্রমিকবান্ধব বাজেট ও সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার দাবি জাতীয় শ্রমিক শক্তির

শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে জাতীয় শ্রমিক শক্তি।

শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় শ্রমিক শক্তি আয়োজিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির, সদস্য সচিব ঋয়াজ মোর্শেদ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ। কৃষি, শিল্প, নির্মাণ, পরিবহন, সেবা খাত এবং রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রমিকদের শ্রম, মেধা ও ত্যাগ অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সুফল এখনো শ্রমজীবী মানুষের জীবনে সমানভাবে প্রতিফলিত হয়নি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং সীমিত সামাজিক সুরক্ষার কারণে শ্রমিকরা নানা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, জাতীয় বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দর্শন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতিফলন। তাই, বাজেট কতটা শ্রমবান্ধব এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সক্ষম, সেটিই মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড হওয়া উচিত।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ শ্রমিক অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। তাদের অধিকাংশই পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্ঘটনা বিমা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা এবং বেকারত্বকালীন সহায়তার মতো মৌলিক সামাজিক নিরাপত্তার বাইরে রয়েছেন। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরাও ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হচ্ছেন।

তারা বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, জলবায়ু ঝুঁকি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে শ্রমবাজারে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা জরুরি।

সংগঠনটির দাবির মধ্যে রয়েছে— জাতীয় পর্যায়ে শ্রমিক প্রশিক্ষণ তহবিল গঠন; নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু; শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য স্বল্পব্যয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ; শিল্পাঞ্চলভিত্তিক শ্রমিক আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন; সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা ও পেনশন ব্যবস্থা চালু; শ্রমিক কল্যাণ তহবিল শক্তিশালীকরণ; মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ এবং ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

ওএফএ/জেআই/এমএন

বিজ্ঞাপন