চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা চায়না ইকোনমিক জোন (সিইআইজেড) প্রকল্পে আবারও আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে ঝুলে থাকা ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ প্রকল্পের জট অবশেষে কাটতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলতি মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে সম্ভাব্য চীন সফরের আগেই এ অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প একনেকের এজেন্ডায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এক দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন জটিলতায় আটকে থাকার পর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (সিইআইজেড) প্রকল্প। গত ১৬ জুন সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার’ এবং ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা’ করার প্রতিশ্রুতির অংশ। কর্ণফুলী নদীর উত্তরে বঙ্গোপসাগরের পূর্ব তীরে মোহনায় আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে এ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল। যা বঙ্গবন্ধু টানেল থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
প্রকল্পের নথিতে বলা হয়েছে, অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং চীনের প্রেফারেন্সিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) ঋণ থেকে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা অর্থায়ন করা হবে। আর প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে তোলা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক রোড ও ৩৩০ মিটার সেতু, ১ হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ চার লেন সড়ক, দৈনিক ২ কোটি ৫০ লাখ লিটার সক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, গ্যাস সরবরাহ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও ট্রান্সমিশন লাইন, পানি সংরক্ষণাগার এবং ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ বাউন্ডারি ওয়াল নির্মিত হবে।
প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রায় বলা হয়েছে, সরকারের প্রত্যাশা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত এক লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পরোক্ষভাবে আরও প্রায় চার লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বেজা ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটির ডেভেলপার চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। এর মাধ্যমে প্রায় এক দশক ধরে ঝুলে থাকা এ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে প্রস্তাবিত এ শিল্পাঞ্চলে প্রাথমিকভাবে ৫০ কোটি ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে এখানে ৫৩ হাজার থেকে এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এদিকে নির্বাচিত নতুন সরকার আসায় প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে আনোয়ারার চায়না ইকোনমিক জোন চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
সূত্র বলছে, ২০১৬ সালে কর্ণফুলী টানেল সড়কের কালাবিবির দীঘি মোড়সংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয়। সে সময় দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত হিসেবে এটি ব্যাপক সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছিল। টানেল সড়ক থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে ৪০ ফুট প্রশস্ত একটি সড়ক প্রকল্প এলাকায় গিয়ে মিলেছে।
চুক্তির প্রথম তিন বছরে প্রকল্প এলাকার প্রায় ২০০ একর পাহাড়ি টিলার মাটি সমান করা হয়। বৈরাগ এলাকা থেকে ইকোনমিক জোন পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার চার লেনের সড়ক নির্মাণ করা হয়। এছাড়া সীমানা প্রাচীর এবং একটি প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর গত এক দশকে আর উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে কর্ণফুলী টানেল সড়কের কালাবিবির দীঘি মোড়ের কাছে যখন প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় তখন এ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাপক সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। টানেল সড়ক থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরত্বে ব্রিক সলিনের ৪০ ফুট প্রশস্ত সড়কটি চলে গেছে প্রকল্পের গেট পর্যন্ত। চুক্তির প্রথম তিন বছরে প্রকল্প এলাকার দুইশ একর পাহাড়ি টিলারমাটি সমান করা হয়। বৈরাগ থেকে ইকোনমিক জোন পর্যন্ত চারলেনের এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের বৈরাগ অংশে প্রায় এক কিলোমিটারের সীমানা প্রাচীর রয়েছে। প্রকল্প এলাকায় একটি অফিস নির্মাণ করা ছাড়া বিগত ১০ বছরে কাজের আর কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি।
বেজা সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের আগস্টে চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে গড়ে তোলা হবে এ শিল্পাঞ্চল। সম্পূর্ণ অঞ্চলটি চীনা উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। এখানে কেমিক্যাল, অটোমোবাইল অ্যাসেম্বলি, গার্মেন্টস ও ওষুধ শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
শিল্প বিনিয়োগকারীরা বলছেন, কর্ণফুলী টানেল চালুর পর আনোয়ারায় শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়েছে। ইতোমধ্যে কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) এলাকায় উল্লেখযোগ্য শিল্প কার্যক্রম গড়ে উঠেছে এবং সেখানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
তাদের মতে, চায়না ইকোনমিক জোন বাস্তবায়িত হলে আনোয়ারা বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামে আবাসন, ব্যবসা, পরিবহন ও সেবাখাতেও নতুন গতি আসবে।
এদিকে কেইপিজেড, নতুন সম্ভাবনা চায়না ইকোনমিক জোন ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ফলে আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ করেছে আবাসন প্রতিষ্ঠান সিপিডিএল। কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ের আনোয়ারাকে আধুনিক ও পরিকল্পিত উপশহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও আবাসন প্রতিষ্ঠান সিপিডিএল পরিবারের মধ্যে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আনোয়ারায় বাস্তবায়নাধীন সিপিডিএলের মেগা প্রকল্প ‘সিপিডিএল অনিন্দ্যনগর’-এর মাস্টার প্ল্যান উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে ‘ওয়ান সিটি, টু টাউন’ ধারণার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ধারণার মূল লক্ষ্য কর্ণফুলী নদীর দুই তীরকে সমানভাবে উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও ভারসাম্যপূর্ণ নগর কাঠামোয় রূপান্তর করা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আনোয়ারা ধীরে ধীরে একটি আধুনিক স্যাটেলাইট সিটিতে পরিণত হবে, যা মূল নগরের ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে সহায়ক হবে। সভায় তৎকালীন সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. নূরুল করিম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী, সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. জামিলুর রহমানসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সিপিডিএলের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেনসহ উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় উঠে আসে, কর্ণফুলী টানেলকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ চট্টগ্রামে যে নতুন অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে, ‘সিপিডিএল অনিন্দ্যনগর’ প্রকল্প তা আরও বেগবান করবে। সিডিএ কর্মকর্তারা মাস্টার প্ল্যানটি পর্যালোচনা করে এর বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে ইতিবাচক মতামত দেন এবং উদ্যোগটিকে সময়োপযোগী ও ভবিষ্যতমুখী নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘সিপিডিএল অনিন্দ্যনগর’ শুধু একটি আবাসন প্রকল্প নয়; বরং আবাসিক ও বাণিজ্যিক সুবিধার সমন্বয়ে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ লাইফস্টাইল ডেস্টিনেশন হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, সিডিএ ও সিপিডিএলের এই সমন্বিত উদ্যোগ চট্টগ্রামের দক্ষিণ পাড়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার যেন প্রকল্পটি আর পিছিয়ে না যায়। দ্রুত কাজ শুরু হলে এলাকার অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। চট্টগ্রামের শিল্প মানচিত্রে নতুন অধ্যায় রচনার সম্ভাবনা নিয়ে তাই আনোয়ারার মানুষ এখন নতুন আশায় বুক বাঁধছেন।

চায়না শিল্পজোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. শাহেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, চায়না ইকোনমিক জোন প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে সাত থেকে আটটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুন মাসে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের মধ্যে জমির ডেভেলপার অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মূল অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হবে।
এদিকে, পিএবি-টোইটং আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে এক হাজার ১৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হবে এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামে একটি নতুন অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত ৯ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কর্ণফুলী টানেল হয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ও মহেশখালীর মাতারবাড়ী পর্যন্ত একটি নতুন অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে উঠবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা ঢাকা পোস্টকে বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত পিএবি-টোইটং মহাসড়ক বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির বিকাশেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, কর্ণফুলী টানেল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সম্ভাবনাময় শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনে এ মহাসড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে নতুন শিল্প স্থাপন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অনীহা, ডিপিপি অনুমোদন ও অর্থায়নসংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পটি দীর্ঘদিন স্থবির ছিল। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরকে কেন্দ্র করে এ প্রক্রিয়ায় গতি আসে এবং বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে পৌঁছে।
অর্থনীতির এই সম্ভাবনা নিয়ে ঢাকা পোস্টের সঙ্গে কথা বলেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুনা সাহা। তিনি মনে করছেন, এই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তার মতে, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করবে।
তিনি আরও জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত ধাপে ধাপে নিজস্ব তহবিল ও ঋণের অর্থ ব্যয়ের একটি সুপরিকল্পিত রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই পরিকল্পিত বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিল্প ও অর্থনৈতিক চিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে বিদেশি শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়ে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) উপ-ব্যবস্থাপক (মনিটরিং) সেঁজুতি বড়ুয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রকল্পটি ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। এখন পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ধাপে ধাপে এর কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এসএম
