২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি প্রশমনে তিন শতাংশে বরাদ্দ উন্নীত করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।
শনিবার (২০ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনটি।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, আমাদের গতানুগতিক আমলানির্ভর বাজেট পরিকল্পনা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। বছরের শেষপ্রান্তে এসে বাজেটের টাকা খরচের যে মহোৎসব আমরা বিগত দিনগুলোতে দেখেছি, তার ফলে টাকা খরচের ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও লুটপাটের ঘটনাই পরিলক্ষিত হয়েছে। বাজেটের বরাদ্দ করা অর্থ দুর্নীতিমুক্তভাবে খরচ করতে হবে এবং পরিবেশের বাজেট করার আগে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করার দাবি জানাই।
বাপা সহ-সভাপতি অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ বলেন, কার্বন ট্রেডিং কিয়োটো-প্রটোকলের মাধ্যমে বিক্রি করা সম্ভব হলেও বাংলাদেশ তা করতে ব্যর্থ। অথচ এই মার্কেটের শতকরা ৬০ শতাংশ চায়না নিয়ে যাচ্ছে। সলিড ডিসপোজালগুলোকে পুরোপুরি কার্বন ট্রেডিংয়ের আওতায় আনা উচিত। ফ্লাইওভার তৈরির মাধ্যমে শহরে বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্ডারগ্রাউন্ড যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হলে এ বায়ু দূষণের মাত্রা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হতো। পয়োঃবর্জ্য ও শিল্প দূষণ আজ সুপেয় পানির উৎসকে বাধাগ্রস্ত করছে। বাংলাদেশ এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এশিয়ার যেকোনো দেশের চেয়ে অনেক নিচে অবস্থান করছে।
সরকারের কাছে বাপার ৫টি দাবি
১. আর্থিক কাঠামো ও বরাদ্দ বৃদ্ধি : জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি প্রশমনে বর্তমান ০.৭৬ শতাংশ বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি অন্তত ৩ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। বেসরকারি খাত থেকে পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের জন্য সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত বন্ড চালু করে তহবিল গঠন করা যেতে পারে।
২. কার্বন ট্যাক্স ও দূষণ মূল্য : উচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী শিল্প ও লাক্সারি গাড়ি আমদানিতে বিশেষ কার্বন কর আরোপ করে সেই অর্থ পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যবহার করা। যেসব শিল্প-কারখানা বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) পরিচালনা করে না, তাদের ওপর কঠোর জরিমানা আরোপ করে সেই তহবিলে কেন্দ্রীয় শোধনাগার নির্মাণ।
৩. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্কুলার ইকোনমি : মহানগরগুলোর ল্যান্ডফিলে বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প গ্রহণ করে পরিবেশ রক্ষা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করা। প্লাস্টিক রিসাইক্লিং শিল্পে কর ছাড় দেওয়া এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ।
৪. প্রযুক্তি ও গবেষণা (আর অ্যান্ড ডি) : বাংলাদেশে ক্লাইমেট টেকনোলজি স্টার্টআপদের জন্য বিশেষ ইনকিউবেশন সেন্টার ও সিড ফান্ড দেওয়া। মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র (স্পারসো) কে শক্তিশালী করে নদীর গতিপথ ও বনভূমি দখল রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং করা।
৫. উপকূলীয় সুরক্ষা ও ম্যানগ্রোভ : সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় কৃত্রিম বাঁধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন ম্যানগ্রোভ বনায়ন সৃষ্টি করে সাইক্লোন থেকে রক্ষার প্রাকৃতিক দেয়াল তৈরি করা।
এমএম/আরএফ/জেডএস
