ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সঠিক দক্ষতা ও সুযোগের মাধ্যমে এই তরুণরাই ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
শনিবার (২০ জুন) নগরের খুলশী কনভেনশন হলে আয়োজিত ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০২৬ (চট্টগ্রাম)’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল।
সামিটে সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার, শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরা অংশ নেন।
‘হোয়্যার ট্যালেন্ট মিটস গ্লোবাল অপরচুনিটি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সামিটের উদ্বোধন করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। এ সময় তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
তিনি বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বড় শক্তি এবং দক্ষতা ও সুযোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
মীর হেলাল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত পেশাজীবী ও ফ্রিল্যান্সারদের স্বার্থ বিবেচনায় তাদের আয়ের ওপর আরোপিত ৭ শতাংশ কর প্রত্যাহার করে শূন্যে নামিয়ে এনেছেন। পাশাপাশি দেশের তরুণ ফ্রিল্যান্সাররা যাতে সহজে বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে পেপালের মতো আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবা দেশে চালুর বিষয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, একসময় ফ্রিল্যান্সারদের কোনো স্বীকৃত পরিচয়পত্র বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় ছিল না। বর্তমান সরকার প্রথমবারের মতো তাদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র (ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড) চালু করেছে, যা তাদের পেশাগত পরিচয় ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবদুল্লাহ আল মামুন, বাক্কো কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আলিম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাক্কো কার্যনির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি মো. তানজিরুল বাসার, অর্থ সম্পাদক মো. আমিনুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মুসনাদ-ই-আহমদ, পরিচালক আবু দাউদ খান, পরিচালক আব্দুল কাদের এবং পরিচালক সায়মা শওকত।
আবদুল্লাহ আল মামুন তার বক্তব্যে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকার, শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব এবং এ ধরনের আয়োজন সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সামিটে বাক্কোর সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম বলেন, দেশের বিপিও ও আইটিইএস শিল্প বর্তমানে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে এবং ১ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার আয় এবং ৩ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাক্কো।
ফয়সল আলিম তার বক্তব্যে বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নই বিপিও ও আইটিইএস শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি। তিনি তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ সক্ষমতা এবং পেশাগত প্রস্তুতি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সামিটের সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাক্কোর পরিচালক সায়মা শওকত, অগমেডিক্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাশেদ মুজিব নোমান, কাজ ৩৬০ এর প্রতিষ্ঠাতা এমরাজিনা ইসলাম, বাক্কোর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মুসনাদ-ই-আহমদ, প্রথম আলোর সাংবাদিক রাহিতুল ইসলাম, এটেক অস্ট্রেলিয়া ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শুভাশীষ ভৌমিক, দ্যা ডেইলি স্টারের চিফ বিজনেস অফিসার মো. তাজদিন হাসান এবং এডব্লিউ কমিউনিকেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাবের শাহ।
আরএমএন/বিআরইউ
