বিজ্ঞাপন

ডা. ফওজিয়া মোসলেম

নারীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতা এখন রাজনৈতিক সামাজিক সংকট

নারীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতা এখন রাজনৈতিক সামাজিক সংকট

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেছেন, নারীর বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও সহিংসতা এখন শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয়, এটি একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, এ সংকট মোকাবিলায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে বাংলা অ্যাকাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে কবি সুফিয়া কামালের ১১৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মারক বক্তৃতা, সুফিয়া কামাল সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে সুফিয়া কামালকে পৌঁছে দিতে হলে তাকে নিয়ে আরও গভীর গবেষণা ও পুনঃপাঠ প্রয়োজন। নারীর মর্যাদা, রাজনৈতিক অধিকার, সমতা এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠায় তার অবদান নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, নারীর অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্ন শুধু নারীদের একার বিষয় নয়, এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব। নারী বিদ্বেষ, ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সুফিয়া কামালের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অতিথি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতাকর্মীরা। পরে ‘একি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণে জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামাল’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

‘নারীর প্রতি বিরাজমান ঘৃণা, বিদ্বেষ ও সহিংসতা নিরসনে সুফিয়া কামালের আলোয় পথচলা’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা বলেন, সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের রূপান্তরমূলক নারীবাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাবিদ, যিনি নারীকে করুণার পাত্র নয়, বরং পূর্ণ মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন।

অনুষ্ঠানে বরেণ্য চিত্রশিল্পী মো. আবুল হাশেম খানকে ‘সুফিয়া কামাল সম্মাননা’ দেওয়া হয়। 

তিনি বলেন, সুফিয়া কামালের মানবিকতা ও সাহসী প্রেরণা অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি জুগিয়েছে এবং তার জীবন আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।

অনুষ্ঠানে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতাকর্মী, বিভিন্ন জেলার সংগঠক ও গণমাধ্যমকর্মীসহ প্রায় ৫০০ জন উপস্থিত ছিলেন।

জেইউ/আরএফ 

বিজ্ঞাপন