বিজ্ঞাপন

প্ল্যান পাসে হয়রানি করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি সিডিএ চেয়ারম্যানের

প্ল্যান পাসে হয়রানি করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি সিডিএ চেয়ারম্যানের

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (সিডিএ) অতীতের গৌরব ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা। তারা বলেছেন, সিডিএ কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করলে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ ধ্বংস ও অবৈধ দখল ঠেকানো সম্ভব। সংস্থাটিকেই নিজেদের পথনকশা নির্ধারণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে পরিকল্পিত, শতভাগ বাণিজ্যিক রাজধানী, সবুজ, টেকসই, দুর্যোগ-সহনশীল ও নান্দনিক নগরী গড়ে তুলতে জাতীয় সংসদেও তারা সোচ্চার থাকবেন।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভায় চট্টগ্রামের সংসদীয় আসনের সদস্যরা এসব কথা বলেন।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন– চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শাকিলা ফারজানা।

সংসদ সদস্যরা বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে সত্যিকার অর্থে জনবান্ধব সংস্থায় রূপ দিতে তারা জাতীয় সংসদে নিয়মিত সোচ্চার থাকবেন। চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করে মাস্টারপ্ল্যানের আলোকে নগরের ওপর চাপ কমিয়ে উপশহর গড়ে তুলতে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেন তারা। তবে সিডিএ নিজেদের কাজের গতি ও স্বচ্ছতা না বাড়ালে তা কখনোই সম্ভব হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

সমন্বয় সভায় সিডিএর অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, জমির দাম তিনগুণ দিয়ে সিডিএর পক্ষে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এটি আইন করে পরিবর্তন করা জরুরি। এ বিষয়ে রাজউক ও ভূমি মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব দিতে হবে। পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঠেকাতে সব সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, সিডিএর অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। এই সংস্থার অনেক বদনাম রয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে দুর্নীতি অফিসটিকে ঘিরে ফেলেছিল। আমরা চাই না তার পুনরাবৃত্তি ঘটুক।

ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ও পানিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সংযোগ নিশ্চিত হওয়ার পর সিডিএর অনুমোদন দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। একই সঙ্গে নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়ে সংসদে কথা বলার আশ্বাস দেন। এ সময় তিনি বলেন, “আমরা জনগণের সরকার। জনগণের জন্যই কাজ করি। জনগণ যা চায় না, এমন কিছু আমরা করব না।

সংসদ সদস্য এনামুল হক বলেন, সিডিএ তাদের আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করলে কেউ ৬ তলার অনুমোদন নিয়ে ১২ তলা ভবন নির্মাণ করতে পারবে না। মানুষকে সিডিএর আইন সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি নিয়মের বাইরে গেলে ভবন ভেঙে ফেলা হবে- এ বার্তাও দিতে হবে।

নগরের স্বার্থে প্রয়োজনে সব সংসদ সদস্য যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবেন বলে জানান সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ ও আইন সংস্কারের জন্য আমরা সংসদে ভূমিকা রাখব। তবে চট্টগ্রামে কোথায় কী ধরনের ভবন গড়ে উঠছে, তা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিডিএর। খাল-নালা দখলের কারণে নগরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং নগরবাসী ভোগান্তিতে পড়ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সমন্বয়হীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো সমন্বয়, যা যুগ যুগ ধরে অনুপস্থিত। মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন হলেও সমন্বয়ের অভাবে তা বাস্তবায়িত হয় না।

সিডিএ চেয়ারম্যানকে নিজের ক্ষমতা পুরোপুরি প্রয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ক্ষমতাবান ব্যক্তির অবৈধ অনুরোধকে বারবার ‘না’ বলতে পারলেই কাজ হবে। সবার মন রক্ষা করে কখনোই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যায় না। আইন প্রয়োগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।”

তিনি আসনভিত্তিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সিডিএর একটি সুস্পষ্ট পথনকশা তৈরির প্রস্তাব দেন।

সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি স্বীকার করেন, চট্টগ্রামের অনেক আবাসিক এলাকা অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠলেও অতীতে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে কল্পলোক আবাসিক এলাকায় ব্যাপকভাবে অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ হয়েছে। ফলে ভবন মালিকরা আইনের তোয়াক্কা করেননি এবং সেখানে দুর্নীতিও হয়ে থাকতে পারে।

আইন প্রয়োগে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, “অর্থমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, তার যদি কোনো ভবনও নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মিত হয়ে থাকে, সেটিও ভেঙে ফেলা হোক। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। চট্টগ্রামকে নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

জনভোগান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিডিএ সম্পর্কে মানুষের মনে অনেক নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। একটি ভবনের প্ল্যান পেতে মানুষকে নাকি দুই বছর পর্যন্ত ঘুরতে হয়। কেন এমন হয়রানি হবে? তিনি বলেন, জনবান্ধব সিডিএ গড়ে তুলতে কেউ যদি অসহযোগিতা করে বা দুর্নীতির আশ্রয় নেয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভাপতির বক্তব্যে সিডিএ চেয়ারম্যান আরও জানান, সমন্বয় সভার আলোচনার ভিত্তিতে এবং সংসদ সদস্যদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত একটি কার্যকর পথনকশা প্রণয়ন করা হবে। চট্টগ্রামকে নান্দনিক, সবুজ, পরিকল্পিত ও টেকসই নগরীতে রূপ দিতে তিনি কাজ করে যাবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সভায় সিডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এনামুল হক নাবিদ/বিআরইউ