বিজ্ঞাপন

চসিকের প্রকৌশল বিভাগে নিয়োগ-পদোন্নতিতে আইইবির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন

চসিকের প্রকৌশল বিভাগে নিয়োগ-পদোন্নতিতে আইইবির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রকৌশল বিভাগের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে পেশাজীবী সংগঠন ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইইবি) প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, প্রকৌশল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আইইবির একটি অংশের সদস্যদের প্রভাব বিস্তার করছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বাইরের কোনো সংগঠনের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে চসিক মেয়রের দপ্তরে আইইবির কয়েকজন নেতা ও সদস্যের সাক্ষাৎ করেন। তারা একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তারা চসিকে কয়েকজন প্রকৌশলীর পদায়নে চাপ তৈরি করেন।

এ বিষয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, আইইবির কয়েকজন সদস্য ও নেতা আমার কাছে এসে নিজেদের বঞ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিষয়টি আমি দেখব, কাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে চসিক নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হবে এবং কেউ প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবেন না।

চসিকের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য, প্রকৌশল বিভাগে কর্মরত প্রকৌশলীদের মধ্যে আইইবির সদস্য সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাদের প্রভাব বেশি। বদলি, পদোন্নতি ও দায়িত্ব বণ্টনের মতো বিষয়ে তাদের মতামত গুরুত্ব পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

তবে আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, সংগঠনটি প্রকৌশলীদের পেশাগত উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে। কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ তাদের নেই।

চসিকের প্রকৌশলী নিয়োগে আইইবির সদস্যপদ বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশের অন্যান্য সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিই মূল যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হলেও চসিকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শর্ত হিসেবে আইইবির সদস্যপদ যুক্ত করা হয়।

চসিকের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোনো পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যপদ সরকারি চাকরির যোগ্যতার বাধ্যতামূলক শর্ত হলে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সরকারি বিধিমালাই প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত বলে মত তাদের। কয়েকজন প্রকৌশলী দাবি করেন, চসিকের সার্ভিস রুল অনুযায়ী কোনো পদ শূন্য হলে পদোন্নতির বিষয়টি আগে বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তারা জানান, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিকের সময়ে চাকরিবিধি ও অর্গানোগ্রামে আইইবি সদস্যপদের শর্ত যুক্ত করেছিলেন। এই পরিবর্তনের ফলে আইইবির সঙ্গে যুক্ত নন, এমন অনেক প্রকৌশলী নিয়োগ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।

আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, যারা গ্র‍্যাজুয়েট প্রকৌশলী রয়েছেন তাদের অনেকেই আমাদের সদস্য। তাদের পেশাগত মানোন্নয়নে আমরা কাজ করি। তাছাড়া তাদের সমস্যা নিয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলি। কেউ বঞ্চিত হলে তার পাশে দাঁড়ায় এবং প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের বুঝানোর চেষ্টা করি। এর বাইরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আমাদের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

এমআর/জেআই/এমএন