ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়া ও চীন দুই দেশ মিলিয়ে তিনি ছয় দিনের সফর শুরু করবেন মালয়েশিয়া দিয়ে। রোববার (২১ জুন) কুয়ালালাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। মালয়েশিয়া থেকে তিনি পাঁচ দিনের সফরে সোমবার চীনে যাবেন।
সরকারপ্রধানের মালয়েশিয়া সফর নিয়ে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর খুব একটা কৌতুহল না থাকলেও চীন সফর নিয়ে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে অনেকের। এ সফরের দিকে বিশেষ নজর রাখছে ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। এ ছাড়া, যুক্তরাজ্য বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কোনো কোনো দেশও এ সফর নিয়ে খোঁজখবর রাখছে, জানতে চাইছেন সফর সম্পর্কে।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সরকার প্রধানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের বিস্তারিত তুলে ধরতে কার্টেন রেইজারের আয়োজন করা হয়। রীতি অনুযায়ী কার্টেন রেইজারে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। পরে পররাষ্ট্রসচিব সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
প্রধানমন্ত্রীর দুই দেশ সফরের কার্টেন রেইজার শেষ হওয়ার পরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে মন্ত্রণালয়ে আসেন জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। এরপর আসেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক ও নিকোলাস উইকস।
এ ছাড়া, এদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী, যিনি এখনো রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিচয়পত্র পেশ করেননি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে ‘হঠাৎ’ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ কিংবা পরিচয়পত্র পেশ করার আগে তড়িঘড়ি করে ভারতীয় দূতের পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ধারণা করা হচ্ছে, হয়তো কোনো গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতেই ওয়াশিংটন ও দিল্লির দূতরা এসেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, শনিবার রাষ্ট্রাচার প্রধান এ এফ এম জাহিদ-উল-ইসলামের কাছে ভারতীয় নতুন দূত তার লেটারস অব ক্রিডেন্স (পরিচয়পত্র) পেশ করেন। এরপর দিনেশ ত্রিবেদী পররাষ্ট্রসচিবের সাক্ষাতে যান।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার চীন সফর নিয়ে বিশেষ আগ্রহ থাকবে। আজকে যেসব দেশের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা সচিবের সাক্ষাতে এসেছেন তারা হয়তো প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের আগে তাদের ক্যাপিটালের কোনো বিশেষ বার্তা জানাতে আসতে পারেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ থেকে বেরিয়ে দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ এড়িয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বিজয়ের প্রসঙ্গ টানেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণে আমি এখানে এসেছি। গত রাতে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দারুণ একটা জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং পরবর্তী পর্বে চলে গেছি; সুতরাং আমি এখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সব বাংলাদেশিকে উৎসাহিত করতে এসেছি, যাতে সামনের দিনে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করেন।
তিনি আরও বলেন, কেননা, দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে আপনাকে কখনো পস্তাতে হবে না।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এ সাক্ষাৎকে ‘রুটিন সাক্ষাৎ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ঢাকায় বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পররাষ্ট্র বিষয়ক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে এগুলো নিয়মিত বৈঠক।
এদিন, রাতে খলিলুর রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে এক পোস্টে বলা হয়েছে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থের দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর কেন্দ্রীভূত ছিল, যার মধ্যে ছিল— পারস্পরিক বাণিজ্য সহজীকরণ, উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদার এবং ভবিষ্যতে উভয়পক্ষ লাভবান হবে এমন বিষয়গুলো অন্বেষণ করা।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে উদীয়মান পরাশক্তি চীনের সঙ্গে ঢাকার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। সরকারপ্রধানের বেইজিং সফরে সামরিক সহযোগিতার বিষয়ও আলোচ্যসূচিতে থাকার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। চীনা প্রেসিডেন্টের বৈশ্বিক চার উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার বিষয়ও বাংলাদেশ সরকারের ‘বিবেচনায়’ থাকার কথাও বলেছেন তিনি।
এ সফরের আগে মার্কিন ও ব্রিটিশ দূতদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এক প্রশ্নে বলেন, রাষ্ট্রদূতরা এখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে এসেছেন। তৃতীয় দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে নয়।
শনিবার মন্ত্রণালয়ে দেখা করতে আসা কোনো রাষ্ট্রদূতের চীন সফরের কোনো বিষয় নিয়ে উদ্বেগ ছিল কিনা এমন প্রশ্নে হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা যাব, তাদের উদ্বেগ কেন হবে? আমরাতো যে দেশে যেতে চাই, ওই দেশে যাব। যেখানে আমরা দ্বিপাক্ষিকভাবে মনে করব যে, আমরা এই মুহূর্তে যাওয়া দরকার। যুক্তরাষ্ট্রে যখন যাব, অন্যের কী মাথাব্যথা, আমরাতো তাকাবো না। আমরাতো তাকাব, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় অংশীদার। আমাদের দেশের স্বার্থে যখন যাইতে হবে, আমরা যুক্তরাষ্ট্রে যাব।
তিনি আরও বলেন, যখন আমাদের যেতে হবে বেইজিংয়ে, বেইজিংয়ে যাব। তখন আমাদের যেতে হবে, যখন টেম্পারেচার ডাউন হবে, যখন কনডিউসিভ অ্যাটমোসফেয়ার হবে, আমরা ইন্ডিয়াতেও যাব, অসুবিধা নাই। মানে বিভিন্ন জায়গায় যাব, পশ্চিম এশিয়ায় যাব। আমাদের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যাব। কখন, কোথায় যেতে হবে, কেউ আমাদের নির্দেশ করবে না। আমরাতো কোনো লেজুড়ভিত্তিক বা অবৈধ সরকারও না, গত ১৫ বছর দেখেছেন গোলামির সরকার, আমরা গোলামির সরকারতো না। আমাদের কেউ নাচাবে না।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বেড়েছে। অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, অসন্তোষ বেড়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও দুই দেশের সম্পর্কে অসন্তোষ দেখা গেছে। বিশেষ করে সীমান্তে ভারতের পুশ ইন নিয়ে বিরক্ত ঢাকা। এ ছাড়া, দিল্লি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে আটকে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, তারই পরিপ্রিক্ষেতে ঢাকায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার পাওয়ানকুমার বঢ়েকে তলবের মুখে পড়তে হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরে চীনের সঙ্গে ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প আলোচনায় থাকার কথাও বলেছেন তিনি।
যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের উজানে চীনা বাঁধ নির্মাণের প্রসঙ্গে ধরে পদ্মা বহুমুখী প্রকল্প ও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনার বিষয়ে করা প্রশ্নে পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম আলম বলেন, সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা বা ‘ইন্টিগ্রেটেড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট’ একটা আলোচনার বিষয় এবং আমি ধারণা করি সেই আলোচনা অনেক বিস্তৃত এবং সম্প্রসারিত। সেখানে আপনারা যে প্রসঙ্গগুলো তুলেছেন, তার বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেই আমি ধারণা করি। আমরা তুলব, তিস্তা প্রসঙ্গ তুলব। সেক্ষেত্রে অন্যান্য নদী ব্যবস্থাপনা বা ‘ওয়াটার ম্যানেজমেন্টের’ ক্ষেত্র থেকে আরও আলোচনা বিস্তৃত হবে।
বাংলাদেশ সরকারের তিস্তা মহাপরিকল্পনায় অর্থায়নের প্রস্তাব প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। একটা ‘স্টাডি’ হয়েছে, আমরা সেই বেশ কিছু আগে, সেই ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি’টা আমরা ‘রিভিজিট’ করেছি। কিন্তু ‘রিভিজিট’ করার পর, আবার যেটা বললাম ‘রিজার্ভার, ড্যামেজ সাইজ’—এগুলো আসলে তারপর সমস্ত আলোচনা হবে। সুতরাং এই পর্যায়ে আমরা সেই ‘স্টেজে’ নাই।
বাংলাদেশ ২০১১ সাল থেকে ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদী তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি করতে চাইছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের বার বার প্রতিশ্রুতির পরও ওই পানি চুক্তি হয়নি। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানি পায় না বাংলাদেশ। আর বর্ষাকালে বন্যায় ভেসে যায়। দেশের উত্তরাঞ্চলে এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তারই সমাধান হিসেবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা সামনে আনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। চীনকে সঙ্গে নিয়ে এর কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। ভারতও আন্তঃসীমান্ত নদীর গুরুত্ব বিবেচনায় এই কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে।
বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর ভারত ও চীনের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পায়। এ প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রস্তাবও আসে ভারত থেকে।
২০২৪ সালের জুনে শেখ হাসিনা দিল্লি সফর করেছিলেন। ওই সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে তাদের চাওয়া-পাওয়ার কথা তুলে ধরেন। দিল্লি সফরের মাসখানেকের মধ্যেই জুলাই মাসে তিনি বেইজিং সফরে যান। ওই সফরে তিস্তাসহ আরও কিছু বিষয়ে ঢাকা-বেইজিংয়ের মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ার অসন্তোষ তৈরি হয়। সেজন্য শেখ হাসিনা নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরেন।
গত মে মাসে দিল্লি সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে নয়াদিল্লিতে নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাটস্ট্র্যাটে’র কনভেনর ও বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ বলেছিলেন, বাংলাদেশ চীনের সহযোগিতায় তিস্তা নদীতে একটি ব্যারাজ নির্মাণ করতে চায়। এটি বাংলাদেশের পছন্দের বিষয়। এটি বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে ভারত কোনোভাবেই বাংলাদেশকে থামাতে পারে না। ভারত শুধু বলতে পারে, এটি আমাদের উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এটি বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন নদী।
২১ থেকে ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। ২২ জুন চীনের দালিয়ানে গিয়ে পরের দুদিন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে বিভিন্ন আয়োজনে যোগ দেবেন তিনি। ২৪ থেকে ২৬ জুন বেইজিং সফর করবেন তারেক রহমান। ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী এবং শেষদিন চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি।
এনআই/এসএম
