দেশের কৃষি খাতে সারের চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়ানো এবং বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা দ্রুত সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সার কারখানাগুলো পরিদর্শন করেছেন।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে মন্ত্রী আনোয়ারার বেসরকারি খাতের ‘কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ (কাফকো) এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ‘চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড’ (সিইউএফএল) ও ‘ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট’ (ডিএপি) ফার্টিলাইজার কারখানা পরিদর্শন করেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের সফরের মূল উদ্দেশ্য বেসরকারি খাতের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে সেগুলোকে সমান তালে এগিয়ে নেওয়া। সম্প্রতি গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর কাফকো এবং ডিএপি সার কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সিইউএফএল-কেও দ্রুত উৎপাদনে ফেরানোর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সার কারখানাগুলোর সার্বিক অবকাঠামো এবং কারিগরি সক্ষমতা সশরীরে যাচাই করতে মন্ত্রীর সঙ্গে পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু নাছের খান, মন্ত্রীর একান্ত সচিব ফখরুদ্দীন আহমদসহ স্থানীয় প্রশাসন ও কারখানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী কারখানাগুলোর বর্তমান উৎপাদন অবকাঠামো, যান্ত্রিক স্থায়িত্ব এবং সামগ্রিক সংস্কারের প্রয়োজনীয় দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তিনি।
মতবিনিময় সভায় শিল্পমন্ত্রী দেশের কৃষি খাতের সুরক্ষায় দেশীয় সার উৎপাদনের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেন। তিনি, কারখানাগুলোর আধুনিকায়ন, সময়োপযোগী যন্ত্রপাতি মেরামত এবং দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। কারখানার বিদ্যমান সংকটগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি উদ্যোগে দেশের সার কারখানাগুলোকে সচল রাখতে সম্ভাব্য সকল ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) উত্তম চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কারখানা পরিদর্শন করে যন্ত্রপাতি সুসংহত রাখা ও উৎপাদন বাড়ানোর ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা কারিগরিভাবে উৎপাদনে যাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি। গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, কাফকো এবং ডিএপি সার কারখানার পর সিইউএফএল-এ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায় তৎপর রয়েছে। শিল্পমন্ত্রীর এই মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনের ফলে, গ্যাস সংকট নিরসনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও গতিশীল হবে, যা দেশের কৃষি খাতের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
আতিকুল হা-মীম/জেআই
