ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সংযত করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ। তিনি অভিযোগ করেন, শুভেন্দু অধিকারী প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ বিরোধী যেসব আপত্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন, তা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
ভারতের বর্তমান মোদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জিএম সিরাজ বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনার মাধ্যমে আমি ভারতের মোদি সরকারের কাছে বিশেষ আহ্বান জানাতে চাই, তারা যেন অবিলম্বে শুভেন্দু বাবুকে থামান। তিনি মাঝে মাঝে যে ধরনের তীব্র বাংলাদেশ বিরোধী বক্তব্য দেন, তা ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা চাই দুই দেশের এই সম্পর্ক যেন কোনো ব্যক্তির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে শেখ হাসিনার আর কোনো ভূমিকা নেই। তিনি এখন পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক। তাকে নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবার বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই; তিনি এখন বাংলাদেশেও নেই এবং দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের বাইরে চলে গেছেন।’
দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বের গভীরতা ও স্থায়িত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই সংসদ সদস্য মন্তব্য করেন, ‘আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, এমনকি স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্সও হতে পারে। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ আমরা যে প্রতিবেশী, এই প্রতিবেশীর সম্পর্কের তো কখনো ডিভোর্স হতে পারে না। প্রতিবেশীকে আমরা কখনোই অস্বীকার করতে পারি না, না ভারত পারবে, না বাংলাদেশ পারবে।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক কাব্যিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘নতুন হাইকমিশনার এসে বললেন যে, আমরা একই আকাশ, একই বাতাসের নিচে আছি এবং আমাদের পারস্পরিক বন্ধুত্ব প্রয়োজন। কিন্তু তার এই বক্তব্যের পর আমরা বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড় উঠতে দেখলাম। কেন এই ভারত বিরোধিতা? এই ‘কেন’ প্রশ্নটার গভীরতা দুই দেশের সরকারকেই বুঝতে হবে।’
এসআর/এসএএস/জেডএস
