জাহাজভাঙা শিল্পের শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত ন্যূনতম মজুরির চূড়ান্ত গ্যাজেট অবিলম্বে প্রকাশ, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান, আইনানুগ সবেতন ছুটি নিশ্চিত এবং কর্মক্ষেত্রে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকরের দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বার আউলিয়া এলাকায় জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে জাহাজভাঙা শিল্পের বিভিন্ন ইয়ার্ডের শ্রমিক, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ও শ্রম অধিকারকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের সদস্য ও জাহাজভাঙা শিল্পের ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি মো. আলী। সঞ্চালনা করেন ফোরামের সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু।
এ সময় বক্তব্য দেন– বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কে এম শহিদুল্লাহ, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদ, বাংলাদেশ মেটাল শ্রমিক ফেডারেশন (বিএমএসএফ)-এর যুগ্ম সম্পাদক মো. ইদ্রিস এবং জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মানিক মন্ডলসহ অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা জাহাজভাঙা শিল্পের শ্রমিকরা এখনও ন্যায্য মজুরি, কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ থেকে বঞ্চিত। গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ জাহাজভাঙা শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরির খসড়া গ্যাজেট প্রকাশ করা হলেও এখনো চূড়ান্ত গ্যাজেট প্রকাশ করা হয়নি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তারা বলেন, অধিকাংশ শ্রমিককে নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়া হয় না। ফলে শ্রম আইন অনুযায়ী বিভিন্ন অধিকার ও সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটি, উৎসব ছুটি, নৈমিত্তিক ছুটিসহ আইনানুগ সবেতন ছুটির যথাযথ বাস্তবায়নও হচ্ছে না।
বক্তারা আরও বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর অভাবে জাহাজভাঙা শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গ্যাজেট প্রকাশ, সব শ্রমিককে নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান, আইনানুগ সবেতন ছুটি বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
দাবি পূরণ না হলে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন নেতারা।
এমআর/বিআরইউ
