চট্টগ্রাম নগরের রানী রাসমনি জেলে ইলিশ ঘাটে খাস কালেকশন ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জেলে সম্প্রদায়ের সদস্যরা।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে ঘাটসংলগ্ন সড়কে মাছ, বরফ ও গ্যাস সিলিন্ডার রেখে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান তারা। এ সময় জেলেদের হাতে বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। তাদের দাবি, ঘাটে অবৈধভাবে খাস কালেকশন করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া জেলেরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘাটে মাছ অবতরণ, নৌকা ভেড়ানো, জাল, রশি, বরফ, গ্যাস সিলিন্ডার এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসার ওপর অবৈধভাবে টাকা আদায় করা হচ্ছে। ‘খাস কালেকশনের নামে এসব অর্থ আদায়ের কারণে জেলে ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এতে তাদের দৈনন্দিন ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বক্তারা বলেন, দেশের মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাট হওয়া সত্ত্বেও এখানে কর্মরত জেলেরা নানা ধরনের হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন মাছ নিয়ে ঘাটে আসার পর বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। এ অবস্থায় অনেক জেলে লোকসানের মুখে পড়ছেন।
জেলে নেতারা অভিযোগ করেন, ঘাটে কর্মরত শ্রমিক, নৌকার মাঝি, মাছ ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর ক্ষুদ্র বিক্রেতারাও একই ধরনের অবৈধ অর্থ আদায়ের শিকার হচ্ছেন। তারা অবিলম্বে এসব কার্যক্রম বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া একাধিক জেলে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে চান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলমান চাঁদাবাজির কারণে তাদের আয় কমে যাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তারা।
মানববন্ধনে জেলে সম্প্রদায়ের শতাধিক সদস্য অংশ নেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি চলাকালে ঘাট এলাকায় মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। পরে প্রতিবাদকারীরা তাদের দাবিদাওয়া সম্বলিত একটি স্মারকলিপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
রানী রাসমনি ইলিশ ঘাটের সভাপতি মো. হাসান আলী চৌধুরী বলেন, এই ঘাটের আশেপাশে আরও ঘাট আছে। সেখানে কোথাও খাস কালেকশন নেই। শুধু এখানে খাস কালেকশনের নামে চাঁদাবাজি হচ্ছে। অবৈধ খাস কালেকশন ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ উদ্দিন বলেন, আমি এই ঘাটে ব্যবসা করতেছি ১৯৯৫ সাল থেকে। এর আগে আমাদের মুরব্বিরা ব্যবসা করে গেছেন। তাদের মুখেও কখনো শুনিনি যে খাজনা দিতে হয়। অথচ এখন এসে দাবি করা হচ্ছে খাজনা দিতে হবে। দেশের অন্যতম মাছের আড়ত হলো ফিশারীঘাট। সেখানে পর্যন্ত কোনো খাস কালেকশন নেই। পানি, বরফ, মাছ, চায়ের দোকান সবকিছুতেই না-কি তাদের টাকা দিতে হবে। আমরা এটির সুষ্ঠু সুরাহা চাই।
আরএমএন/বিআরইউ
