বিজ্ঞাপন

ঢাকা পোস্টে সংবাদ প্রকাশ

সিইউএফএলের সেই বিতর্কিত টেন্ডার বাতিল

সিইউএফএলের সেই বিতর্কিত টেন্ডার বাতিল

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় রাষ্ট্রায়ত্ত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) ব্যাগিং, স্ট্যাকিং ও ক্লিনিং কাজের টেন্ডার নিয়ে অনিয়ম, সিন্ডিকেট এবং প্রতিযোগী ঠিকাদারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগের পর শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার বিতর্কিত দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। ঢাকা পোস্টে সংবাদ প্রকাশের পর বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এবার ই-জিপি পদ্ধতিতে তৃতীয় দফার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

এদিকে, টেন্ডার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে সিইউএফএলের উপ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. কামরুল ইসলাম খন্দকারকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দফা বদলি এবং পরে সেই আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। টেন্ডার অনিয়ম ও নানা অভিযোগের মধ্যে বদলির আদেশ জারির পরও তাকে ছাড়পত্র না দিয়ে কর্মস্থলে বহাল রাখা এবং পরে বদলি বাতিলের ঘটনায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ মে ‘সিইউএফএলের টেন্ডার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ঠিকাদার-এমডির যোগসাজশে দেড় কোটি টাকার কাজ ২ কোটি ৩০ লাখে’ শিরোনামে ঢাকা পোস্টে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

জানা যায়, সিইউএফএলের ব্যাগিং, স্ট্যাকিং ও ক্লিনিংসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য গত ২৫ মে দরপত্র আহ্বান করা হলে দেশের ১০টি প্রতিষ্ঠান শিডিউল সংগ্রহ করে। নিয়ম অনুযায়ী উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দরপত্র হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান— শাহ মোহসেন আউলিয়া এন্টারপ্রাইজ ও আনোয়ার ট্রান্সপোর্ট দরপত্র জমা দিতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে শাহ মোহসেন আউলিয়া এন্টারপ্রাইজের দর ছিল ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং আনোয়ার ট্রান্সপোর্টের ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

অন্য আটটি প্রতিষ্ঠান কেন দরপত্র জমা দিতে পারেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্র জমা দেওয়ার দিন দুই প্রতিষ্ঠানের ভাড়াটে লোকজন কারখানার মূল ফটকে অবস্থান নেয়। ফলে অন্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কারখানায় প্রবেশ করতে পারেননি। ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নষ্ট করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি কাজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।

এ ঘটনা নিয়ে ঢাকা পোস্টে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে বিসিআইসি। তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর দ্বিতীয় দফার সনাতন পদ্ধতির দরপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সনাতন পদ্ধতিতে সুবিধা করতে না পেরে এবার ই-জিপির মাধ্যমে তৃতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ২৪ জুন বিসিআইসির হেড অব অপারেশন উত্তম চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত ফের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। 

এদিকে, নানা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ ও টেন্ডার থেকে কমিশন বাণিজ্যের কারণে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমানকে বদলির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিসিআইসি। বিষয়টি টের পেয়ে তিনি বিসিআইসির সদর দপ্তরে গিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। একই সঙ্গে ব্যাগিং, স্ট্যাকিং ও ক্লিনিং কাজের টেন্ডার-সংক্রান্ত অনিয়মের দায় উপ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. কামরুল ইসলাম খন্দকারসহ অন্য কর্মকর্তাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন বিসিআইসির উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. মাসুদ পারভেজ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সিইউএফএলের উপ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. কামরুল ইসলাম খন্দকারকে প্রথমে চন্দ্রঘোনা কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেডে (কেপিএমএল) বদলি করা হয়। পরে তাকে তারাকান্দি যমুনা সার কারখানায় পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ২২ জুন জারি করা বিসিআইসির এক অফিস আদেশে তাকে সিইউএফএলেই বহাল রাখা হয়।

সিইউএফএলে অনিয়মরে বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী হারুনুর রশীদ রুবেল ঢাকা পোস্টকে বলেন, সিইউএফএল একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সার কারখানা। কিন্তু এখানে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তকমা পেয়েছে। নানা অজুহাতে কারখানাটি চালু করতে না পারলেও এমডিসহ সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা দুর্নীতিতে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। যে অনিয়মের কারণে টেন্ডার বাতিল হয়েছে, তার পেছনেও কর্মকর্তাদের কমিশন বাণিজ্যের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। কর্মকর্তা বদলি হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বহাল তবিয়তে থাকা আরও গুরুতর বিষয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিসিআইসির তদন্ত করে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে দুদকেরও তদন্ত করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

এসএএস/এনএফ