বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে বড় নয়, এটি বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট : ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান

সবচেয়ে বড় নয়, এটি বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট : ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘সবচেয়ে বড় বাজেট’ হিসেবে মানতে নারাজ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান। স্বর্ণের দামের সঙ্গে তুলনা করে তিনি দাবি করেছেন, মুদ্রাস্ফীতি হিসাব করলে বাজেটের আকার বাড়েনি বরং এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

বাজেটের আকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাজিবুর রহমান বলেন, “বলা হচ্ছে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট। আসলে কি তাই? ১৯৭২ সালে আমাদের বাজেটের পরিমাণ ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। তখন স্বর্ণের ভরি ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। আজকে স্বর্ণের দাম ১৪০০ গুণ বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার টাকা। সেই তুলনায় বাজেট বেড়েছে মাত্র ১২০০ গুণ। সুতরাং মুদ্রাস্ফীতি হিসাব করলে বাজেটের পরিমাণ প্রকৃতপক্ষে বাড়েনি। এই বাজেটকে বড় বাজেট বলা যাবে না, তবে একে বলা যাবে সবচেয়ে বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট।”

বাজেট প্রণয়নে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাজেট প্রণয়নে আমাদের অংশগ্রহণ কতটুকু? আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শুধু রবার স্ট্যাম্পের মতো বাজেট পাস করি। যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অর্থবিল সংসদে আসার আগে স্থায়ী কমিটিতে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। আমাদের এখানে আমলারা বাজেট বানান, আমরা কয়েক মিনিটের গলাবাজি করি মাত্র। এই সংস্কৃতির পরিবর্তন দরকার।”

ঘাটতি মেটাতে দেশীয় ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যের সমালোচনা করে নাজিবুর রহমান বলেন, “ব্যাংকগুলোর অবস্থা এখন নাজুক। ইসলামী ব্যাংক থেকে সাত দিনে ৪ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে মানুষ। সরকার টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকগুলোকে ধার দিচ্ছে। এই অবস্থায় ব্যাংক থেকে বিশাল অঙ্কের ঋণ নিলে দেশের অর্থনীতির ১২টা বাজবে।”

বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “১৮ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ২৪ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ কর দেন। কিন্তু ভ্যাট দেন দেশের আপামর জনসাধারণ। চাল-ডাল কিনতে একজন ভিক্ষুক যে পরিমাণ ভ্যাট দেন, একজন কোটিপতিও একই পরিমাণ দেন। ২০টি আইটেমের ওপর ভ্যাটের আওতা বাড়ানো হয়েছে। এটি কখনোই গরিববান্ধব বাজেট হতে পারে না।”

আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর ফলে মধ্যবিত্তরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 দুর্নীতি ও লুটপাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এডিসিপি (ADCP) বরাদ্দের ৫০ শতাংশও উন্নয়নের কাজে লাগে না। জবাবদিহিতা ও সক্ষমতা যাচাই ছাড়া এই বিশাল বরাদ্দ আসলে ‘হরিলুটের’ পরিকল্পনা।”

নাজিবুর রহমান বলেন, “বাজেটের বড় অংশ খরচ হচ্ছে সুদ পরিশোধে। আমরা আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শামিল, এই সুদের বোঝা মাথায় নিতে চাই না। দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে আমাদের সুদের ওপর নির্ভর করতে হতো না। যাকাত থেকে ২ লাখ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে যাকাত ভিত্তিক অর্থনীতি চালু করলে দারিদ্র্য বিমোচন সহজ হবে।”

আলোচনায় তিনি নদী ও জলাশয় রক্ষায় ‘জাল যার জলা তার’ নীতিকে আইনি ভিত্তি দেওয়া এবং বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

এমএসআই/বিআরইউ