# আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য
# বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ থেকে ৫ বছরে নিট মুনাফা ১৬৩ কোটি টাকা
# চার মোবাইল কোম্পানির কাছে রাজস্ব বকেয়া ১৩,১৪৪ কোটি টাকা
# ১/১১ সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রীকে নির্যাতনের বিচার দাবি
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনেও ধর্ম, রাজনীতি ও অর্থনীতি ঘিরে ছিল প্রাণবন্ত আলোচনা। কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে সরকারী ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে হয়েছে বিতর্ক। পাশাপাশি ১/১১ সরকারের সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে নির্যাতনের বিচার দাবীও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মুদিদোকানসহ ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা, মোবাইল অপারেটরদের বিপুল রাজস্ব বকেয়া, বিদেশে পাচার হওয়া ঋণের অর্থ উদ্ধার উদ্যোগ, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-২ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং মূল্যস্ফীতি কমানোর লক্ষ্যমাত্রাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংসদে উঠে আসে।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়।
সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। বাজেট আলোচনা বাদ আসর সেশনে সভাপত্বি করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বিরোধীদলের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমাদের ডান পাশের লোক, ডান পাশের বন্ধুরা কেন সেদিন মিছিল করেছিল জানতে পারিনি। স্পিকার, আমাদের কাছে এসে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে, আমাদের মন্ত্রীদের কাছে বাজেট চাইবে, বরাদ্দ চাইবে। কিন্তু রাস্তায় যেয়ে মিছিল করবে।’
এক পর্যায়ে তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা ইব্রাহিমের সাত নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করেন। যে আয়াতের অর্থ হচ্ছে, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের জন্য (আমার নি ‘য়ামাত) বৃদ্ধি করে দেব, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও (তবে জেনে রেখ, অকৃতজ্ঞদের জন্য) আমার শাস্তি অবশ্যই কঠিন।’ কিন্তু সংসদ সদস্য মাহফুজ উল্লাহ এই অনুবাদ পড়ে শোনাননি। যদিও এটির আলোকে বিরোধী দলের উদ্দেশে নিজস্ব বক্তব্য দিয়েছেন। সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান বিরোধী দলের এমপিরা।
বিএনপি সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, কোরআন, হাদিসের আয়াত ঠাট্টা বিদ্রুপের বিষয় নয়। এটা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করা হলে তা খুবই দুঃখজনক।’
ওই আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে নাজিবুর রহমান বলেন, ‘উনাদের প্রশংসা করলে উনারা আরও বাড়ায় দিবেন। আর উনাদের ইয়ে না করলে উনারা আমাদের পিটাবেন নাকি? এ ধরনের বোঝাতে চাচ্ছেন? এটা তো আসলে ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে। এটা খুব ভুলভাল বিষয়।’
তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কঠোর সতর্ক বাণী এসেছে যে এগুলা বিষয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করার বিষয় না।’
জামায়াতের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘এই জিনিসটা আমাদেরকে খুব সতর্কভাবে নিতে হবে, কোরআন হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা, কোরআন হাদিসের এরকম অবমাননা, কিছু বিষয় আমাদের কোনোভাবে করা যাবে না। এটার ব্যাপারে আপনার (স্পিকার) দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমার মনে হয়, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ একজন পুরোনো সংসদ সদস্য। আমার মনে হয় না যে কোরআন হাদিস নিয়ে তিনি কোনো ব্যঙ্গাত্মক কমেন্ট করতে পারেন। তারপরও আমরা পরীক্ষা করে দেখব যদি কোনো ভুল ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয় কোরআন হাদিসের, সেটা এক্সপাঞ্জ হবে এবং কোরআন হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ, এ দেশে কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না।’
সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে স্পিকারের বক্তব্যকে সমর্থন জানান।
এ পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি বিতর্কে যাব না। কিন্তু একটা ভুল মেসেজ যাবে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যখন একটা অভিযোগ আকারে বা যেকোনো আকারে বলা হোক যে, আমাদের একজন মাননীয় সংসদ সদস্য কোরআনের আয়াতে ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমি প্রথমে বলি, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ একজন মাওলানা। মাদ্রাসা পাস।’
বিএনপির সংসদ সদস্য প্রসঙ্গক্রমে কোরআনের আয়াতটি উল্লেখ করেছেন মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করি আল্লাহ আমাদের আরও বাড়িয়ে দেবেন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে অপব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। ৯২ শতাংশ মুসলমানের দেশে এই সংসদে কোনো সংসদ সদস্যের বক্তব্য যদি ভুলক্রমেও ইসলামের প্রতি অবমাননামূলক হয় তারা সেটার নিন্দা করবেন। কিন্তু এটাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না।’
এরপর বিরোধীদল আপত্তি জানাতে থাকলে স্পিকার বলেন, ‘আমি তো বললাম যে আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ কোনো ব্যঙ্গাত্মক কথা এখানে বলবেন না। তিনি একজন প্রবীণ সংসদ সদস্য। তারপরেও তিনি যে মাদ্রাসার ছাত্র সেটাও বলা হলো। আপনারা নিশ্চয়ই হয়তো ওনাদের চেয়ে বেশি জানেন। অনেক আলেম ওলামা আপনাদের মধ্যে থাকতে পারে। এটা নিয়ে বিতর্ক হোক, এটা চাই না। আমরা সবাই মুসলমান। এখানে অধিকাংশই মুসলমান। এই দেশটারও ৯২ শতাংশ মানুষ মুসলমান সুতরাং এগুলো নিয়ে সংসদে কোনো রকম বিরূপ আলোচনা হোক এসব স্পর্শকাতর বিষয় এটা তো চাই না।’
এ সময় বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য দাঁড়ালে স্পিকার বলেন, ‘আপনাদের সিনিয়র নেতারা সামনে দাঁড়িয়েছেন। সংসদে প্রথম বেঞ্চে যখন সিনিয়র নেতারা দাঁড়ায়, পেছন দিকে আপনারা বসে যাবেন।’
তখন জামায়াতে ইসলামীর মুজিবুর রহমানকে ফ্লোর দেন স্পিকার। স্পিকার বলেন, কোনো বিতর্ক হয় এমন কোনো কিছু তুলবেন না। এখানে সবাই তো অধিকাংশই মুসলমান অধিকাংশই ধর্মের প্রতিবাদ শ্রদ্ধা পোষণ করে।
এরপর মুজিবুর রহমান বলেন, এই আয়াতটা নাজিল হওয়ার প্রেক্ষাপট হচ্ছে আল্লাহ তাআলা তার অগণিত নেয়ামত এই পৃথিবীতে রেখেছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামতকে গুনতে চাও তাহলে গুনে শেষ করতে পারবে না। যারা আল্লাহর এই দুনিয়ায় আল্লাহর নিয়ামত ভোগ করছে, আমি কথা বলছি, এটা আল্লাহ আমাকে একটা নিয়ামত দিয়েছেন। অতএব আমার মুখ দিয়ে আল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো কথা আমি বলতে পারি না। আমাকে যে শক্তি আল্লাহ দিয়েছেন, এই শক্তি দিয়ে আল্লাহর বিধি-বিধানের পক্ষে আমাকে কথা বলতে হবে।’
জামায়াতের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উনি এটা নিয়ে গেছেন মানে দলীয় একটা এইযে বাজেট বক্তৃতা, বাজেটটা খুব ভালো হয়েছে অতএব বিরোধীদলকে বাজেটের প্রশংসা করতে হবে। এটা যদি প্রশংসা না করে তার ওপর আজাব আসবে। এইদিকে নিয়ে গেছিল উনি। এই কথাটা মোটেও সঠিক না।’
মুজিবুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমার মনে হয় আপনি যদি প্রয়োজন মনে করেন একজন আলেমের কাছে যেয়ে বলবেন কোনো মানুষের অবদানের কথা এখানে বলা হয়নি।’
তখন স্পিকার বলেন, ‘এখানে মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত আলেম অনেক বেশি আছে, এখানে এইদিকের চাইতে। সেটা তো আমরা স্বীকার করে নিয়েছি। তবে আমার এই ট্রেজারি বেঞ্চেও দু-একজন আছে।’
এ সময় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, ‘সংসদ সদস্য মাহফুজ উল্লাহ একজন আলেম। তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেছেন কিনা তা স্পিকার জানতে চাইতে পারেন। তিনি এই আলোচনা এখানেই শেষ করার আহ্বান জানান। পরে আবার বাজেট আলোচনায় ফিরে যান স্পিকার।
সবচেয়ে বড় নয়, এটি বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘সবচেয়ে বড় বাজেট’ হিসেবে মানতে নারাজ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান। স্বর্ণের দামের সঙ্গে তুলনা করে তিনি দাবি করেছেন, মুদ্রাস্ফীতি হিসাব করলে বাজেটের আকার বাড়েনি বরং এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট।
বাজেটের আকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাজিবুর রহমান বলেন, বলা হচ্ছে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট। আসলে কি তাই? ১৯৭২ সালে আমাদের বাজেটের পরিমাণ ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। তখন স্বর্ণের ভরি ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। আজকে স্বর্ণের দাম ১৪০০ গুণ বেড়ে হয়েছে ২ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা। সেই তুলনায় বাজেট বেড়েছে মাত্র ১২০০ গুণ। সুতরাং মুদ্রাস্ফীতি হিসাব করলে বাজেটের পরিমাণ প্রকৃতপক্ষে বাড়েনি। এই বাজেটকে বড় বাজেট বলা যাবে না, তবে একে বলা যাবে সবচেয়ে বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট।
মুদিদোকানসহ ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা
মুদিদোকান, প্রসাধনসামগ্রীর দোকানসহ ব্যবসায়িক ১৬ খাতকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভ্যাটের সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে যেসব ব্যবসায়ী খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো হলো, মুদিদোকান, তৈরি পোশাক বা কাপড় বিক্রেতা, কনফেকশনারি, প্রসাধনসামগ্রীর দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটরস; মুঠোফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা; পেইন্ট ও হার্ডওয়্যার এবং সেনিটারি ও ফিটিংস; টাইলসের দোকান, ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্ট, ফার্নিচার, মিষ্টান্ন ভান্ডার ও রেস্তোরাঁ। অর্থমন্ত্রী জানান, বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভ্যাট বাবদ ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
দেশে ব্যাংক হিসাব ১৯ কোটি ৩২ লাখ
সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে সর্বমোট ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ২৩২টি। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ী হিসাবের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, যার পরিমাণ ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি। এছাড়া দেশের ব্যাংকগুলোতে বর্তমান মোট ঋণ হিসাবের সংখ্যা ১ কোটি ৫৩ লাখ ৭৬৭টি। দেশের সব নাগরিককে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার এখন ২০৩১ সালের সময়সীমা নির্ধারণ করে ‘জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল ২’ প্রণয়নের বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে।
চার মোবাইল কোম্পানির কাছে রাজস্ব বকেয়া ১৩,১৪৪ কোটি টাকা
সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের এক তারকা চিহ্নিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সংসদকে জানিয়েছেন, চার মোবাইল কোম্পানির (টেলিটক বাংলাদেশ, গ্রামীণফোন লিমিটেড, রবি আজিয়াটা লিমিটেড ও বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন লিমিটেড) কাছে সরকারের ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা রাজস্ব বকেয়া রয়েছে। এরমধ্যে গ্রামীণ ফোনের কাছে ৬ হাজার ১০২ কোটি, টেলিটকের কাছে ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি, রবি আজিয়াটার কাছে ৬১৫ কোটি এবং বাংলালিংকের কাছে ৪৭৩ কোটি টাকা রাজস্ব বকেয়া রয়েছে।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। বর্তমানে সেতু বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
বিদেশে পাচার হওয়া ঋণের অর্থ উদ্ধারে ৩০ ব্যাংকের উদ্যোগ
ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংক ঋণের অর্থ পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে এটি একটি দেওয়ানি (সিভিল) প্রক্রিয়া। খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো ৯টি আন্তর্জাতিক আইনগত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করে ‘নো উইন, নো ফি’ শর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, প্রথম পর্যায়ে ছয়টি মামলাকে কেন্দ্র করে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এগুলো হলো সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা এবং ওরিয়ন গ্রুপ-সংক্রান্ত মামলা।
রেজল্যুশনের আওতায় নেওয়া পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীরা কবে, কতটুকু ও কোন শর্তে টাকা ফেরত পাবেন, তা নিয়ে সংসদের প্রশ্নোত্তরে একাধিক সংসদ সদস্যের উদ্বেগ উঠে এসেছে। প্রশ্নোত্তরে অন্তত ছয়জন সংসদ সদস্য ব্যাংক খাতের তারল্যসংকট, আমানতকারীর টাকা ফেরত, কথিত ‘হেয়ার কাট’, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক চালু হওয়া ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের অগ্রগতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে জানতে চান।
জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি বা এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ও ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসিকে ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫-এর আওতায় নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যাংকের দায় ও সম্পদ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে হস্তান্তর করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্কিম অনুযায়ী আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, শরিয়াহ আইন অনুযায়ী ইসলামি ব্যাংকিংয়ে ব্যাংক মুনাফা করলে আমানতকারীরা মুনাফা পাওয়ার অধিকারী হন। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ব্যাংক মুনাফা না করলেও আমানতকারীদের চার শতাংশ ‘এহসান’ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তবে ‘হেয়ার কাট’ প্রত্যাহার হবে কি না বা গ্রাহকেরা পূর্ণ মুনাফা পাবেন কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত বা সময়সীমা অর্থমন্ত্রীর জবাবে আসেনি।
অপর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে ইতিমধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে আমানতকারীরা বর্তমানে তাঁদের সুরক্ষিত আমানত তুলতে পারছেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
১/১১ সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রীকে নির্যাতনের বিচার দাবি
বিগত ১/১১-এর সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরে নির্যাতন হয়েছে তার মুখোশ উন্মোচন এবং বিচার দাবি করেছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার। এর বিচার না হলে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেছেন।
গতকাল প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে শাম্মী আক্তার আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তার মেরুদণ্ডের হাড়টি বাঁকা হয়ে জোড়া লেগেছে। তিনি প্রতিশোধ নিতে চান না। প্রতিহিংসা এবং প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না, এটি থেকে তিনি বেরিয়ে আসতে চান। এটি অবশ্যই একটি দেশের জন্য, রাজনীতির জন্য ইতিবাচক দিক। কিন্তু প্রতিশোধ নয়, আমরা বিচার চাই। আমরা চাই ১/১১-এর সরকারের সময়ে তার ওপরে যে নির্যাতন সংঘটিত হয়েছে, এই ঘটনার মুখোশ উন্মোচন করা হোক এবং এই ঘটনার আমি বিচার দাবি করছি। বিচার যদি না হয় তাহলে পরবর্তীতে এই ঘটনা আবারও পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আমি আশঙ্কা প্রকাশ করছি।
আওয়ামী লীগের জায়গা আছে, বিএনপি-জামাতের যাওয়ার জায়গা নেই
প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সাতক্ষীরা-১ আসনের জামায়াতের ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেছেন, জনগণ গণঅভ্যুত্থান করে আওয়ামী লীগকে দেশ ছাড়া করেছে। বিএনপি জামাতকে ভাবতে হবে? আমরা যদি সুশাসন দিতে না পারি, আমরা চান্দাবাজি, ধান্দাবাজি, টেন্ডবাজি করে যদি দেশ চালাতে চাই, আমাদেরও পরিণতি কী হবে, এটা ভেবে দেখা দরকার। তাদের তো যাওয়ার জায়গা আছে, বিএনপি-জামাতের যাওয়ার কিন্তু জায়গা নেই।
মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, আমার আগে একটু আগেই ব্যারিস্টার নাজিম মোমেন সাহেব তিনি কিন্তু আজকের পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে বললেন যে, সরকার টাকা ছাপাচ্ছে। আমিও দুই তিন মাস আগেই এটা দেখছিলাম পত্রিকায়। নিজেই দেখছিলাম যে, সরকার টাকা ব্যাংক থেকে টাকা সরকার টাকা ছেপে এটা ব্যাংকে দিচ্ছে। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে তো মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাবে। তাহলে দেশটা কীভাবে চলবে? ঋণ করে ঘি ভাত খাওয়ার মতন আমাদের অবস্থা। আমরা ঋণ করে তিন লাখ কোটি টাকা উন্নয়ন বাজেট করছি। তো আমাদের কী অবস্থা সৃষ্টি হবে একটা সময় গিয়ে? আওয়ামী লীগ তো ১৫ বছরের মাথায় এসে তারা ৩০ লাখ কোটিতে নিয়ে গেল। আমাদের তো ১৫ বছরের মাথায় গিয়ে ৬০ লাখ কোটি টাকা হয়ে যাবে। তখন আমাদের অবস্থাটা কী সৃষ্টি হবে, কীভাবে আমাদের দেশটা চলবে?
মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কিন্তু কারো ‘খাড়া’র মাছ না। এই জনগণ তারা গণঅভ্যুত্থান করে আওয়ামী লীগকে দেশ ছাড়া করেছে। বিএনপি জামাতকে ভাবতে হবে? আমরা যদি সুশাসন দিতে না পারি, আমরা চান্দাবাজি, ধান্দাবাজি, টেন্ডবাজি করে যদি দেশ চালাতে চাই, আমাদেরও পরিণতি কী হবে, এটা ভেবে দেখা দরকার। তাদের তো যাওয়ার জায়গা আছে, বিএনপি জামাতের যাওয়ার কিন্তু জায়গা নেই। এইজন্য আমি মনে করি যে, আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সরকারি দল, বিরোধী দল মিলেই একটা সরকার।
বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ থেকে ৫ বছরে নিট মুনাফা ১৬৩ কোটি টাকা
দেশের প্রথম উপগ্রহ ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ এর বাণিজ্যিক ব্যবহারের মাধ্যমে গত ৫টি অর্থবছরে সর্বমোট ১৬৩.৯৭ কোটি টাকা নিট মুনাফা হয়েছে। এই সময়ে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৭৬৪.১০ কোটি টাকা। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ এর বাণিজ্যিক ব্যবহার চলছে। দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচার, ডিটিএইচ সেবা, ভি-স্যাট সেবা, বিদেশে স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথ বিক্রয় এবং দুর্যোগকালীন জরুরি টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানের মাধ্যমে এটি দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় অবদান রাখছে।
সংসদে উপস্থাপিত বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)-এর বিগত ৫ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ ২০২০-২১ অর্থবছরে ১২৯.১১ কোটি টাকা রাজস্ব আয় এবং ৮৪.২৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা করে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৩০.৬৬ কোটি টাকা রাজস্ব আয় এবং ৮৫.২৯ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৪৭.৯৯ কোটি টাকা রাজস্ব আয় এবং ৭৩.৫৭ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৬৯.৫৬ কোটি টাকা রাজস্ব আয় এবং ২৯.৬৪ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয়েছে ১৮৭.০৭ কোটি টাকা, নিট মুনাফা হয়েছে ৩৮.৩৬ কোটি টাকা।
গত ৫ অর্থবছরে সর্বমোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৭৬৪.১০ কোটি টাকা এবং সব মিলিয়ে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৩.৯৭ কোটি টাকা।
‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-২’ উৎক্ষেপণ প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী সংসদকে জানান, এটিকে মূলত একটি ‘আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট’ হিসেবে মহাকাশে পাঠানোর কাজ চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের কৃষি, মৎস্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রপথে চলাচলরত জাহাজের ট্র্যাকিং, ব্লু ইকোনমি এবং দেশের সামগ্রিক সামুদ্রিক নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য স্যাটেলাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যেই তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রস্তাবনা পাওয়া গেছে, যা বর্তমানে যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণাধীন রয়েছে। এই ফিজিবিলিটি স্টাডি-র ফলাফল প্রাপ্তিসাপেক্ষেই পরবর্তী চূড়ান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে মন্ত্রী তার জবাবে আশ্বস্ত করেন।
রাজস্বদাতার সংখ্যায় বড় লাফ, বৈদেশিক ঋণের সুদ-আসল পরিশোধের চাপ সামলাতে কঠোর সরকার
জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব আদায় ও দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক ঋণের সর্বশেষ তথ্যচিত্র তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সাথে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দেশের ঋণ ব্যবস্থাপনার নানা চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলায় সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথাও সংসদকে অবহিত করেন মন্ত্রী।
এক বছরে নতুন করদাতা সাড়ে ১৪ লাখ, এপ্রিল পর্যন্ত রাজস্ব আদায় ৩.২৭ লাখ কোটি টাকা
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রাজস্ব প্রদানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অর্থবছরে নিবন্ধিত রাজস্বদাতার সংখ্যা যেখানে ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫৬৫, সেখানে চলতি অর্থবছরে তা ১১.৮৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৬-এ। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৯২১টি নতুন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রাজস্ব ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। কর-জাল সম্প্রসারণ, নতুন করদাতা শনাক্তকরণ এবং অনলাইনভিত্তিক সেবা বাড়ানোর কারণে নিবন্ধিত রাজস্বদাতার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য এনবিআরের সার্বিক রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭১০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সাময়িক হিসাবে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৭ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা, যা এপ্রিল পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৮২.৪৯ শতাংশ।
বিদেশি ঋণ ৭৮ হাজার মিলিয়ন ডলার ছাড়াল, বাড়ছে সুদ-আসল পরিশোধের দায়
রাজস্ব আদায়ের ইতিবাচক ধারার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক ঋণের একটি বড় চাপের চিত্রও সংসদে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, গত মার্চ মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ২২৩ দশমিক ৪৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বিপুল পরিমাণের এই ঋণের মধ্যে ৬১.৯৭ শতাংশ রয়েছে কনসেশনাল বা সহজ শর্তের ঋণ এবং বাকি ৩৮.০৩ শতাংশ নন-কনসেশনাল বা কঠিন শর্তের ঋণ। বিশ্বব্যাংকের সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার কারণে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগ ধীরে ধীরে কমে আসছে। একই সাথে বিগত বছরগুলোতে সরকারের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের পরিমাণও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সামনের দিনগুলোতে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের দায় অনেকটাই বাড়বে।
অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে লাগাম, ঋণ ব্যবস্থাপনায় আসছে আইনি সংস্কার
বৈদেশিক ঋণের এই ক্রমবর্ধমান চাপ ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, এখন থেকে নতুন কোনো বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের আগে ঋণ ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প প্রস্তাব অত্যন্ত নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে, যেন উচ্চ সুদে কোনো অপ্রয়োজনীয় বা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা না হয়। শুধুমাত্র উচ্চ অর্থনৈতিক রিটার্ন নিশ্চিত করতে পারবে, এমন প্রকল্পগুলোকেই এখন বৈদেশিক ঋণের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রকল্পগুলোর সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে নিবিড় তদারকি শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে ঋণ ব্যবস্থাপনাকে টেকসই ও সহনশীল রাখতে সরকারের মিডিয়াম টার্ম ডেট ম্যানেজমেন্ট স্ট্র্যাটেজি হালনাগাদ করার কাজ চলছে এবং নিয়মিত ডেট সাসটেইনেবিলিটি অ্যানালাইসিস করা হচ্ছে। সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনার সার্বিক গুণগত মান বাড়াতে খুব দ্রুতই প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কারের জন্য একটি নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
এমএসআই/এমএসএ
