চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মামলা দায়েরের মাত্র সাত কার্যদিবসের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ। বুধবার (২৪ জুন) রাতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩০৭ ও ৩০২ ধারায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রযুক্তিগত তদন্ত, আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই তদন্ত শেষ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৩ জুন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার পরৈকড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে নিজ বসতঘরে এনি বড়ুয়া ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ সময় প্রিয়াস বড়ুয়া নামের আরেকটি শিশু গুরুতর আহত হয়। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঘটনাস্থলে গিয়ে যৌথ অভিযান শুরু করে।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল আসামি তেজপ্রিয় বড়ুয়াকে (৪০) শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পরদিন ১৪ জুন সকালে পটিয়া রেল স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ জুন রাত সোয়া তিনটার দিকে পটিয়া রেল স্টেশনের পাশের একটি ডোবা থেকে নিহতদের ব্যবহৃত স্মার্টফোন এবং ঘটনাস্থলের পাশে চানখালি খাল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার তদন্তে চারজন পুলিশ সদস্যসহ ২২ জন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মা ও মেয়ের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত শিশু অর্ক বড়ুয়ার মাথায়ও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার বিষয়টি মেডিকেল রিপোর্টে উঠে এসেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, ঘটনাটি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব ধরনের সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহ করেছি। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, এটি একটি নৃশংস ঘটনা ছিল। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেছে। আমরা আশা করছি, আদালতের মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন।
এসএইচএ
