বিজ্ঞাপন

সংসদে সালাউদ্দিন আইয়ুবী

ঋণনির্ভর প্রস্তাবিত বাজেট ‘গরিব হয়রানির’

ঋণনির্ভর প্রস্তাবিত বাজেট ‘গরিব হয়রানির’

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে কেবল ‘গরিব মারা’ নয়, বরং ‘গরিব হয়রানির বাজেট’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আইয়ুবী। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই বাজেট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করেনি এবং শহীদ পরিবারের কান্নার খবর রাখেনি।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

সালাউদ্দিন আইয়ুবী বলেন, প্রায় পৌনে তিন লক্ষ কোটি টাকা ঋণনির্ভর যে বাজেট পেশ করা হয়েছে, তা দেখে অনেকে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। আমি আশ্চর্য হইনি। কারণ যারা নিজেরা ঋণনির্ভর, ঋণগ্রস্ত ও ঋণখেলাপি, তারা ঋণনির্ভর বাজেটই দেবে, এটাই স্বাভাবিক।

বাজেট ঘোষণার আগেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেট পেশের আগেই ১৪টি ভোগ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বেড়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসের দাম দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে। পরিবহন ভাড়া সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মানুষ আশা করেছিল বাজেটে মূল্যস্ফীতি কমবে, কিন্তু এই বাজেট তাদের হতাশ করেছে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর কর আরোপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হবে। 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বাজেট কমানোর প্রসঙ্গ টেনে সালাউদ্দিন আইয়ুবী বলেন, গত বছর দুদকের বরাদ্দ ছিল ২০৩ কোটি টাকা, এবার তা কমিয়ে ১৯৭ কোটি টাকা করা হয়েছে। ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ কমিয়ে মূলত দুর্নীতিকে উৎসাহিত করা হয়েছে। মেগা প্রকল্পের আড়ালে এখন মেগা দুর্নীতি চলছে। এমনকি স্কুল ফিডিং ও খাল খনন প্রকল্পেও ক্যালকুলেটর চেপে ১০-১৫ শতাংশ ঘুষ নেওয়া হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অত্যন্ত হতাশার কথা হলো, এই বাজেট জুলাইকে ধারণ করেনি। জুলাই কমিশনের জন্য একটি টাকাও বরাদ্দ রাখা হয়নি। শহীদ পরিবারের কান্নার খবর এই বাজেটে নেই।

বাজেট বাস্তবায়নে বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, ঋণ নিয়ে বড় বাজেট দিলেই উন্নয়ন হয় না। দুর্নীতি কমিয়ে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়ভিত্তিক ও যাকাতভিত্তিক ইসলামের আদলে যদি ব্যয় করা যায়, তবে কম বাজেটেও দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।

এমএসআই/এমএসএ