ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করে সরকারি আবাসন প্রকল্পের একটি প্লট আত্মসাতের চেষ্টা এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা দায়েরের অভিযোগে নুরুল আমিনকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর দায়ের করা মামলা থেকে বিচারাধীন ছিল।
দণ্ডপ্রাপ্ত নুরুল আমিনের বাড়ি চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানার কৈবল্যধাম হাউজিং এলাকার জে ব্লকের ২৭৭ নম্বর বাসায়। তার বিরুদ্ধে মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৮(গ) ধারায় দায়ের করা হয়েছিল।
দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল করিম রনি বলেন, আসামি ভুয়া এনআইডি তৈরি করে সরকারি প্লট আত্মসাতের চেষ্টা এবং মিথ্যা তথ্য প্রদানের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধীন বাস্তবায়িত কৈবল্যধাম গৃহায়ন ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পের জে-২৭৭ নম্বর প্লটটি মূলত মো. হারুন মিয়ার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তিনি নিয়ম অনুযায়ী প্লটের মূল্য পরিশোধ করে দখলও গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে নুরুল আমিন ওই প্লটের ওপর কোনো বৈধ মালিকানা বা স্বত্ব না থাকা সত্ত্বেও নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মো. হারুন মিয়ার নামে ভুয়া এনআইডি তৈরি করে প্লটটি নিজের নামে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি প্লটটি বিক্রির উদ্দেশ্যে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ ও চুক্তিও করেন।
তদন্তে আরও উঠে আসে, প্লটের লিজ দলিল রেজিস্ট্রি করতে ব্যর্থ হওয়ার পর নুরুল আমিন এস্টেট ম্যানেজার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আবু জাহানের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ও অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। উদ্দেশ্য ছিল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে হয়রানি করা এবং চাকরিগত ক্ষতির মুখে ফেলা।
আরএমএন/এমএসএ
