চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের প্রায় ৭০ শতক জায়গা দখল করে রেখেছে এস এ ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ করছে। প্রায় দেড় বছর ধরে জায়গাটিতে নির্মাণসামগ্রী রাখছে এবং সেখানে একটি অফিসও নির্মাণ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। অথচ, সংশ্লিষ্ট কারও অনুমতি নেয়নি তারা। অভিযোগ উঠেছে, যমুনা অয়েলের সাবেক এক কর্মকর্তাসহ দুই ব্যক্তি গোপনে জমির ভাড়া নিচ্ছেন ঠিকাদারের কাছ থেকে।
যদিও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা সরকারি কাজ করছে। এ কারণে খালি পড়ে থাকা সরকারি জমি ব্যবহার করছে। আর যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষের দাবি, যেহেতু জমিটি তাদের নামে আছে, তাই অন্য কেউ অনুমতি ছাড়া এটি কোনো কাজেই ব্যবহার করতে পারে না।
গতকাল ২৪ জুন নগরের হালিশহর বি ব্লক, আন্ধা হুজুর মাজার সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে বিতর্কিত জায়গাটি দেখে আসেন এই প্রতিবেদক। জায়গাটির আয়তন প্রায় ৭০ শতক। আশপাশের জমির মূল্যের হিসাব অনুযায়ী জায়গাটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। সেখানে বেশ কয়েকটি মালবাহী ট্রাক, স্ক্যাভেটর, লোহার পাইপ, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী রাখা আছে। একপাশে খালি কনটেইনার রাখা হয়েছে এবং সেখানে একটি অস্থায়ী অফিস করা হয়েছে এস এ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের।
গোপনে জমির ভাড়া নেন দুজন!
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্তত দেড় বছর আগে যমুনা অয়েলের সাবেক কর্মকর্তা এস এম হোসেন ও কোম্পানির ম্যানেজার (অ্যাডমিন অ্যান্ড স্টেট) মো. নজরুল ইসলামের যোগসাজশে জায়গাটি দখলে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। ওই দুজনকে প্রতি মাসে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
যমুনা অয়েলের সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে জায়গাটি পরিদর্শনে যান যমুনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় সেখানে নির্মাণসামগ্রী রাখা এবং অফিস নির্মাণের বিষয়টি কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে যমুনার কর্মকর্তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের কাছে বিষয়টি জানতে চান। তারা জানান, এস এম হোসেন ও নজরুল ইসলামের কাছ থেকে জায়গাটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে।
এরপর যমুনার এমডি পরিচয় গোপন রেখে এস এম হোসেনকে ফোন দেন। অপরপ্রান্তে কল রিসিভ করে নিজেকে যমুনার বর্তমান কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন হোসেন। তখন এমডি জানতে চান, তিনি কোথায় কর্মরত রয়েছেন। হোসেন জানান, তিনি যমুনার টার্মিনালে কর্মরত রয়েছেন। পরে যমুনার এমডি নিজের পরিচয় জানালে বিপাকে পড়েন হোসেন। তখন তিনি জানান, যমুনা থেকে ইতোমধ্যে তিনি অবসরে গেছেন।
পরে অভিযুক্ত দুজনকে অফিসে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন যমুনা অয়েলের এমডি। এ বিষয়ে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।
ফোনকলে ঘটনার নতুন মোড়
যমুনা অয়েলের সাবেক কর্মকর্তা এস এম হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, যমুনার এমডি স্যার আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। আমি প্রথমে চিনতে পারিনি। আমাদের সাবেক কলিগ ইউসুফ কল করেছে মনে করে বলেছিলাম, আমি বর্তমানেও চাকরি করি। তবে পরবর্তীতে স্যার পরিচয় দিয়েছেন। জায়গাটি দখলে আমার কোনো হাত নেই। আমি কোনো ভাড়াও আদায় করি না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এস এ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবস্থাপক আলী রিয়াল ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা সরকারি কাজের ঠিকাদার। জায়গাটিও সরকারের। যেহেতু আমরা সরকারি কাজ করছি, তাই অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া আমরা এটি অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করছি।
দুজন কর্মকর্তার যোগসাজশে জায়গা দখল এবং তাদের ভাড়া পরিশোধের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

যমুনা অয়েলের একজন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে জানান, সরকারি এক দপ্তরের জায়গা আরেক দপ্তর ব্যবহার করতে চাইলে অনুমতি লাগে। কিন্তু যমুনার জায়গাটির জন্য তারা আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেয়নি। ঊর্ধ্বতন কয়েকজনের যোগসাজশে এটি নামমাত্র মূল্যে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, যা অফিসিয়াল নয়।
এ বিষয়ে যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এমআর/বিআরইউ
