স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে জরিমানা কিংবা জেল দেওয়া নয়। আমাদের উদ্দেশ্য মানুষের জীবন বাঁচানো এবং ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলা।
আজ (শুক্রবার) বনানীর ১৮, ২১ ও ২৪ নম্বর রোডে বাসাবাড়িতে এডিস মশা অনুসন্ধান ও লার্ভা ধ্বংস অভিযানের কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। সারা দেশে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে গঠিত টাস্ক ফোর্স কমিটির উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগরবাসী যদি সচেতন হয়ে নিজের বাসাবাড়ি, আঙিনা ও বাড়ির ছাদের ফুলের টবে জমে থাকা পানি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে, তাহলে ডেঙ্গু থেকে বাঁচা সম্ভব। তিনি বাড়ির ছাদ, আঙিনা কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই বাড়ির ছাদের ফুলের বাগানসহ সব টব, ডাবের খোসা, রঙের কৌটা বা যেকোনো পাত্রে পানি যেন জমে না থাকে, সেজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমরা সচেতন হলেই আমাদের নগরকে ডেঙ্গুমুক্ত করা সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, নগরবাসীর সহযোগিতা নিয়ে আমরা ঢাকা শহরকে ডেঙ্গুমুক্ত করব, ইনশাআল্লাহ।
তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে নগরবাসীকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক অফিস থেকে ডেঙ্গুবাহক লার্ভা নিধনের ট্যাবলেট সংগ্রহ করে নিজ উদ্যোগে বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানিতে ছিটিয়ে লার্ভা ধ্বংসের কাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে নগরবাসীকে সচেতন করতে সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান তিনি।
অভিযান শেষে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস সাংবাদিকদের বলেন, নগরবাসী সচেতন না হলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নির্মূল সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন নিয়মিত বাসাবাড়ি, স্থাপনা ও রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ওষুধ ছিটানো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ডেঙ্গু মশার বাহক লার্ভা নিধনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু মশা নিধনের লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের গৃহীত তিন মাসের কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি বাসাবাড়িতে নিয়মিত সচেতনতামূলক ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অভিযান চলাকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলী বনানীর ২৪ নম্বর রোডের একটি নির্মাণাধীন আবাসিক ভবনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে লার্ভা ধ্বংসের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে সচেতনতামূলক মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং স্টিকারের মাধ্যমে সচেতন করা হয়।
এমএসি/এনএফ
