বিজ্ঞাপন

কার্টুনে সড়ক নিরাপত্তার বার্তা, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পাঠাওয়ের

কার্টুনে সড়ক নিরাপত্তার বার্তা, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পাঠাওয়ের

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ও সুপারঅ্যাপ পাঠাও। ‘সেভ থাকি, সেভ রাখি’ শীর্ষক ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে আয়োজিত কার্টুন প্রতিযোগিতার নির্বাচিত সেরা কাজ নিয়ে শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর দৃক গ্যালারিতে শুরু হয়েছে বিশেষ প্রদর্শনী। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম আহমেদ বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; শিক্ষা, সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে সবাইকে সম্পৃক্ত করেই নিরাপদ সড়কের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, সেই লক্ষ্যেই কার্টুনের মতো সৃজনশীল মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে ‘সেভ থাকি, সেভ রাখি’ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করেছে পাঠাও। ২০১৫ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে পাঠাও প্রতিদিন দেশের সড়কেই কাজ করে আসছে। যাত্রী, ডেলিভারি পার্সেল, ব্যবসায়ীদের মূল্যবান পণ্যসহ সবকিছুই এই রাজপথের ওপর নির্ভরশীল। তাই সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু চালক বা কোনো প্রতিষ্ঠানের নয় বরং রাজপথ ব্যবহারকারী প্রত্যেক মানুষের। 

তিনি আরো বলেন, প্রচলিত সচেতনতামূলক কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে শিল্পী, কার্টুনিস্ট ও সাধারণ মানুষ সবাই নিরাপদ সড়ক নিয়ে আলোচনায় যুক্ত হতে পারেন। কার্টুনের মাধ্যমে সহজ, রসাত্মক অথচ শক্তিশালী সামাজিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

কার্টুন একটি শক্তিশালী, তবে তুলনামূলকভাবে কম ব্যবহৃত মাধ্যম উল্লেখ করে পাঠাও সিইও বলেন, নাগরিক জীবনে সচেতনতা তৈরিতে এর আরও বেশি ব্যবহার হওয়া উচিত। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক নিয়ে নতুন আলোচনা ও ভাবনার সূচনা হবে বলে আশা করছি। 

‘সেভ থাকি, সেভ রাখি’ শীর্ষক মাসব্যাপী কার্টুন প্রতিযোগিতা গত ২০ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এতে হেলমেট ব্যবহার, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা, যানবাহনের ফিটনেসসহ নিরাপদ সড়কের বিভিন্ন বিষয় কার্টুনের মাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।

ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি), ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ), একটি স্কুল এবং গুলশান–২-এ ‘কার্টুন পিপল’-এর সহযোগিতায় পাঁচটি সচেতনতামূলক আয়োজন করা হয়।

আয়োজকরা জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪৫০টির বেশি কার্টুন জমা পড়ে। সেখান থেকে নির্বাচিত সেরা কাজগুলো নিয়েই ২৬ জুন দৃক গ্যালারিতে বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা কার্টুনগুলোর সৃজনশীলতা এবং সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বার্তার প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কার্টুনিস্ট আহসান হাবিব। তিনি বলেন, এই ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য ছিল সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। কার্টুন ও সৃজনশীল গল্পের মাধ্যমে মানুষকে নিজেদের দৈনন্দিন আচরণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন কার্টুনিস্ট আহসান হাবিব এবং শিল্পী মোরশেদ মিশু ও রাশাদ ইমাম তন্ময়। বিচারকদের রায়ে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন রাইদ হোসেন। দ্বিতীয় পুরস্কার ২৫ হাজার টাকা পেয়েছেন নাতাশা জাহান এবং তৃতীয় পুরস্কার ১৫ হাজার টাকা পেয়েছেন ফরিদুর রহমান রাজীব। এছাড়া চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থান অর্জনকারী জুরিস আল মাহি, শওকত রাসাদিন শওখিন এবং মাহতাব রশিদ প্রত্যেকে ৫ হাজার টাকা করে পুরস্কার পেয়েছেন।

প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীদের জন্য দেয়ালচিত্র আঁকা, সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক আলোচনা, নাটক, সরাসরি কার্টুন ও ক্যারিকেচার আঁকার সুযোগ, বিভিন্ন গেম এবং ফটোবুথের আয়োজন রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পাঠাও বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। প্রতিষ্ঠানটির ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী, ৪ লাখ পাঠাও হিরো ও ডেলিভারি এজেন্ট, ২ লাখ মার্চেন্ট এবং ১৫ হাজার রেস্তোরাঁ অংশীদার রয়েছে। রাইড শেয়ারিং, ফুড ডেলিভারি ও ই-কমার্স লজিস্টিকস সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশে ৬ লাখের বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আরএইচটি/এমএসএ

বিজ্ঞাপন