বিজ্ঞাপন

এবার চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইস্যুতে কালো পতাকা মিছিলের ডাক

এবার চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইস্যুতে কালো পতাকা মিছিলের ডাক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), চট্টগ্রাম।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে এনায়েত বাজারস্থ স্কপ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় আগামী ৩০ জুন এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন সকাল ১০টায় আগ্রাবাদের বাদামতলী মোড়স্থ আক্তারুজ্জামান সেন্টারের সামনে থেকে বন্দর অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল বের করা হবে।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহারের সভাপতিত্বে এবং স্কপের যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

সভায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে, বিশেষ করে দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের তৎপরতা চলছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় এনসিটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ চট্টগ্রাম বন্দরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল জনগণের উদ্বেগ ও মতামত উপেক্ষা করে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি। অবিলম্বে এ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানান তারা।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একই দিনে জারি করা দুটি পৃথক চিঠিতে পরস্পরবিরোধী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

স্কপ নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবসার ভূঁইয়া, বিএফটিইউসির রিজওয়ানুর রহমান খান, ডক শ্রমিকদলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, টিইউসির কেন্দ্রীয় সংগঠক ফজলুল কবির মিন্টু, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন শাহীনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমানে সবচেয়ে বড় টার্মিনাল এনসিটি প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা। এই টার্মিনালে একসঙ্গে ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচটি জাহাজ ভেড়ানো যায়। এটিতে চারটি জেটি রয়েছে এবং বন্দরের মোট কনটেইনারের প্রায় অর্ধেক হ্যান্ডলিং করা হয় এই টার্মিনাল দিয়ে। এটিতে ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটিজ হিসেবে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি সম্বলিত ইয়ার্ড। ২০০৭ সালে ৭০০ কোটি টাকা খরচ করে এনসিটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা খরচ করে ১৪টি কি গ্যান্ট্রিক্রেনসহ আধুনিক ইকুইপমেন্ট স্থাপন করা হয়েছে। পরবর্তীতে টার্মিনালে আরও ৫০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কনটেইনার স্থানান্তরের যত উন্নত যন্ত্র দরকার, সবই আছে টার্মিনালটিতে।

মোটাদাগে এই টার্মিনালে সব বিনিয়োগ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আওয়ামী লীগ আমলে তাদের নেতাদের ব্যবহার করে কোনো প্রকার বিনিয়োগ ছাড়াই টার্মিনালটি থেকে সাইফ পাওয়ার টেক হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। দেশি কিংবা বিদেশি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে তেমন সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এনসিটি থেকে বিতর্কিত সাইফ পাওয়ারটেককে সরিয়ে দিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। তখন থেকে বন্দর বিদেশিদের হাতে না দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন পক্ষ সরব হয়। আন্দোলনের মধ্যেই ২০২৫ সালের ৭ জুলাই থেকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেডকে। 

আওয়ামী লীগের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার টার্মিনালটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। তবে শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলন, ধর্মঘটে একপ্রকার বন্দর অচল হয়ে গেলে সরকার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এরপর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর ফের ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর এটি নিয়ে ফের সরব হয় বিভিন্ন পক্ষ। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-১ অধিশাখা থেকে গত ৪ জুন জারি করা দুটি চিঠিকে ঘিরেই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। একটি চিঠিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান নেগোসিয়েশন এগিয়ে নেওয়া অথবা আগ্রহ না থাকলে পুরো প্রক্রিয়া বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। তবে একই স্মারক নম্বরে জারি করা অপর চিঠিতে মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এমআর/এসএইচএ